অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারী কন্ঠ: নোবেল বিজয়ী আমেরিকান লেখিকা টোনি মরিসানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি


(FILES) In this file photo taken on November 8, 2006 US novellist Toni Morrison attends a press conference at the Louvre museum in Paris. Toni Morrison, the first African American woman to win the Nobel Prize for Literature, has died following a…

শাগুফতা নাসরিন কুইন

গত ৫ই অগাস্ট নোবেল বিজয়ী আমেরিকান লেখিকা টোনি মরিসান নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৮।

please wait

No media source currently available

0:00 0:06:56 0:00

টোনি মরিসানের পরিবার থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান। তাকে ঘীরে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা এবং বন্ধুবান্ধবরা। তিনি অল্পদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান।

টোনি মরিসনের জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১ সালে ওহাইও রাজ্যের লোরেইনে। তাঁর আসল নাম ছিল ক্লোই আর্ডলিয়া উফর্ড। তাঁর বাবা মা তাকে লেখায়—সাহিত্যে-- অনুপ্রাণিত করেন। তারা তাকে উৎসাহ দেন পড়তে – চিন্তা করতে।

তিনি যখন হওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন তার পরিচয় হয় এক জামাইকান স্থপতি হ্যারল্ড মরিসানের সঙ্গে। তারা বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তান -- ছেলে হ্যারল্ড আর মেয়ে স্লেড। ১৯৬৪ সালে হ্যারল্ড আর টোনির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

টোনি মরিসানের প্রথম উপন্যাস 'দ্য ব্লুয়েস্ট আই' প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। তাঁর বয়স ৪০এর কোঠায় যখন তিনি ওই বইটি লেখেন। ছেলেবেলায় লোরেইনে, বড় হওয়া একটি ছোট্ট কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ের কাহিনী সেটি। মেয়েটির বড় ইচ্ছে ছিল তাঁর চোখ যদি নীল হত।

১৯৮৮ সালে 'বিলাভেড' গ্রন্থের জন্য টোনি মরিসানকে পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। পালিয়ে যাওয়া এক কৃতদাসের কাহিনী ছিল 'বিলাভেড' উপন্যাসে। উপন্যাসটি অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। তাতে অভিনয় করেছিলেন ওপরাহ উইনফ্রি।

মরিসানের তৃতীয় উপন্যাস “সং অফ সলোমান” National Book Critics Circle পুরস্কার পায়। Book of the Month clubএও বইটি নির্বাচিত হয়।

FILE - U.S. Nobel literature laureate Toni Morrison, seen in this May 29, 2012 file photo, received Distinguished Service Awards at the Authors Guild's 25th annual gala in New York City on Wednesday, May 24, 2017.
FILE - U.S. Nobel literature laureate Toni Morrison, seen in this May 29, 2012 file photo, received Distinguished Service Awards at the Authors Guild's 25th annual gala in New York City on Wednesday, May 24, 2017.

১৯৯৩ সালে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান টোনি মরিসান। Swedish Academy সে সময় তাঁকে এ ভাবে স্বীকৃতি দেন, “তাঁর উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দূরদর্শিতা এবং কাব্যিক অভিব্যক্তি। তিনি এমনি এক লেখিকা যিনি আমেরিকান বাস্তবতার একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ দিককে জীবন্ত করে তোলেন।”

টোনি মরিসান হলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি তখন বলেছিলেন:

“আমার মনে হয় যে কোন লেখকের জন্যই সব চাইতে শীর্ষ পুরস্কারই হচ্ছে নোবেল পুরস্কার। তবে আমি জানি অন্যান্য লেখকের মত আমিও মনে করি আপনার প্রকৃত কাজের সঙ্গে পুরস্কারটা অপ্রাসঙ্গিক বা প্রয়োজন নেই। তবে এটা আমার বলতে হবে যে নোবেল পুরস্কার আপনার জীবনে গভীর ভাবে রেখাপাত করে, নাড়া দেয়।”

টোনি মরিসান ছিলেন অসাধারণ লেখক। তাঁর উপন্যাস, ছোট গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ – সব লেখাতেই ছিল শব্দের যাদু। তার উপন্যাসে তিনি নৈপূণ্যের সঙ্গে সব চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতেন। তীক্ষ্ণ কথোপকথন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ চরিত্রায়ন ছিল তাঁর উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য।

টোনি মরিসন ১১ টি উপন্যাস লেখেন। আফ্রিকান-আমেরিকান চরিত্রগুলো তার লেখায় প্রাধান্য পায়।

Toni Morrison-Arts Academy
Toni Morrison-Arts Academy

তাঁর উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে 'প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম' ও 'ন্যাশনাল হিউম্যানিটিজ মেডেল'।

২০১২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে 'প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম' প্রদান করেন।

এছাড়া, আমেরিকার সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি ‘ন্যাশনাল বুক ফাউন্ডেশনস মেডেল’ অর্জন করেন।

টোনি মরিসানের অসংখ্য ভক্তদের মধ্যে আছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা , বিনোদন জগতের তারকা ওপরা উইনফ্রি, লেখক লেখিকারা, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা এবং আমেরিকা সহ বিশ্বের অজস্র পাঠক পাঠিকা।

টোনি মরিসান Random House প্রকাশনায় সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। Random Houseএর ইতিহাসে তিনি ছিলেন প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান মহিলা সম্পাদক।

তিনি ১৯৫৩ সালে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেন। তিনি বেশ কিছু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। তার মধ্যে রয়েছে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক – পার্চেস, বার্ড কলেজ, রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক – অলব্যানি এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রিন্সটন থেকে ২০০৬ সালে তিনি অবসর নেন।

২০১৯ সালে টোনি মরিসানকে নিয়ে Morrison: The Pieces I am শীর্ষক একটা প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করা হয়।

টোনি মরিসানের পরিবরের বিবৃতিতে বলা হয় “তিনি মা হিসেবে দিদিমা হিসেবে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি তাঁর পরিবার আর বন্ধু বান্ধবদের সান্নিধ্যে আনন্দ পেতেন খুশী - হতেন।”

টোনি মরিসানের প্রয়াণ, সাহিত্য জগতে একটা শূন্যতা সৃষ্টি করল। তাঁর প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

XS
SM
MD
LG