অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে করোনার দুই ডোজ টিকা নেয়া মানুষদের মৃত্যু-ঝুঁকি নেই


বাংলাদেশে করোনার দুই ডোজ টিকা নেয়া মানুষদের মৃত্যু-ঝুঁকি নেই

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ জানিয়েছেন টিকা গ্রহণকারীদের নিয়ে এই গবেষণায় দেখা গেছে তাদের  করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার নগণ্য ও মৃত্যু-ঝুঁকি নাই বললেই চলে।

বাংলাদেশে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে যাতে দেখা গেছে যারা করোনা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ভালো অ্যান্টিবডি গড়ে উঠেছে এবং এদের সংক্রমেনের হার মাত্র দশমিক ৪৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় বা সিভাসু এর সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ জানিয়েছেন টিকা গ্রহণকারীদের নিয়ে এই গবেষণায় দেখা গেছে তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার নগণ্য ও মৃত্যু-ঝুঁকি নাই বললেই চলে।

সিভাসু'র এই গবেষণায় দেখা গেছে টিকা গ্রহণের পর আক্রান্ত হলেও রোগীদের গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগতে হয়নি কিংবা আইসিইউতে নেওয়ার মত জটিলতা দেখা দেয়নি।

সিভাসু জানিয়েছে চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্চলে করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে গত ২২ শে এপ্রিল থেকে ২২ শে জুন পর্যন্ত ১২,৯৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১৩৭ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং সংক্রমের শনাক্তের হার ছিল ১৬.৫ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত এই ২১৩৭ জনের মধ্যে মোট ১০৯৫ জনের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সিভাসুর গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশে করোনার দুই ডোজ টিকা নেয়া মানুষদের মৃত্যু-ঝুঁকি নেই
বাংলাদেশে করোনার দুই ডোজ টিকা নেয়া মানুষদের মৃত্যু-ঝুঁকি নেই

গবেষনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এ সকল আক্রান্তদের মধ্যে ৯৬৮ জন টিকার কোনো ডোজ নেননি এবং বাকি ১২৭ জনের মধ্যে ৬৩ জন শুধু প্রথম ডোজ এবং ৬৪ জন টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

গবেষণার ফলাফল দেখা গেছে হাসপাতালে ভর্তি টিকা না নেওয়া ৮৩ জনের মধ্যে শ্বাস কষ্টের সমস্যা দেখা দেয় যার মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয় এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এসব রোগীর মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ পাওয়া যায়। অপরদিকে টিকা নেওয়া রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক পাওয়া গেছে।

টিকা না নেওয়া সাত জনের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হলেও টিকা গ্রহণকারী রোগীদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় নাই। টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সময়কাল সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়ত হয়েছে এবং ।শেষ পর্যন্ত এদের মধ্যে ১০ জন মারা যান কিন্তু টিকা গ্রহণকারী কেউ মারা যান নাই বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

এই গবেষণার প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে টিকা নেয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে ভয়েস অফ আমেরিকার তরফে জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনাজির আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিন বলেন নিজকে সুরক্ষিত করা এবং অন্যকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য টিকার নেয়ার কোন বিকল্প নাই। তাই একে কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে সকলকে টিকা নিতে হবে বলে উল্লেখ করে অধ্যাপক বেনাজির আহমেদ বলেন সিভাসুর গবেষকরাও মনে করন দেশের বড় জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা গেলে করোনার প্রকোপ এবং তীব্রতা কমে আসবে।

XS
SM
MD
LG