অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না


বাংলাদেশে চলতি ২০১৯ সালে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন তাঁরা ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সরকারের কৃষি বিভাগ দেশে এ বছর ১ কোটি ৯৬ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মোতাবেক গত এপ্রিলের শেষ ভাগে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে

বাংলাদেশে চলতি ২০১৯ সালে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন তাঁরা ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সরকারের কৃষি বিভাগ দেশে এ বছর ১ কোটি ৯৬ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মোতাবেক গত এপ্রিলের শেষ ভাগে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কৃষকদের ধান কাঁটা এখনও অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ সরকার চলতি মৌসুমে প্রতিমন বোরো ধানের দাম নির্ধারণ করেছে ১০৪০ টাকা।

বাজারে ধান উঠতেও শুরু করেছে কিন্তু কৃষকরা অভিযোগ করেছেন ধানের দাম সরকার নির্ধারিত মুল্যতো পাওয়া যাচ্ছেইনা এমনকি এর অর্ধেক দামেও তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারছেননা। তাঁরা বলছেন ধানের মন প্রতি উৎপাদন খরচ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে ধানের প্রকার ভেদে এখন ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছেনা। সরকার এবারের ধান কেনার লক্ষ্য মাত্রা স্থির করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার টন। বাজারে এবার ক্রেতাও কম বলে উল্লেখ করে কৃষকরা বলছেন ধান ক্রয়ের ব্যাপারে সরকারও গড়িমসি করছে। এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে এক কৃষক তাঁর ধান ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে ক্ষোভেরে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়াছেন। ধানের দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও।

ধানের মূল্য নিয়ে দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতিকারে জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। এবছর বোরো মৌসুমে ধানের দামের বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ভয়েস অব অ্যামেরিকার সাথে কথা বলেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজি সাজ্জাদ জহির। তাঁকে প্রশ্ন ছিল সরকার চলতি বোরো মৌসুমে ধানের দাম মনপ্রতি ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু কৃষকরা বলছে তাঁরা সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেকও পাচ্ছেননা। এমনটা কেন হচ্ছে।

তবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে ধানের দাম পড়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করা যাবেনা। তিনি বলেন অতীতে দেখা গেছে, চাষির নাম দিয়ে রাজনৈতিক লোকজন, খাদ্য বিভাগের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা সরকারের গুদামে ধান দিচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন ধানের দাম কম হওয়ায় যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান অবশ্যই করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন কৃষকরা ধানের যদি ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বার বার বঞ্চিত হতে থাকেন এবং লাভের বদলে দিনের শেষে তাঁদের লোকসান গুনতে হয় এর পরনতি হবে অচিন্তনীয়। তাঁরা সতর্ক করেছেন এই বলে যে কৃষকরা যদি ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে খাদ্যশস্যে বাংলাদেশের স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের গর্ব নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। এ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

please wait

No media source currently available

0:00 0:07:35 0:00

XS
SM
MD
LG