অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাড়ছে করোনা, মৃত্যু ও শনাক্তে রেকর্ড


যারা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের অর্ধেকেরও বেশি গ্রামাঞ্চলের

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক শনাক্তের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। প্রাণহানির দিক দিয়ে ১২তম স্থানে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। মৃত্যুও বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এক সপ্তাহে মারা গেছেন এক হাজার ৪৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। এ সময় মারা যান ১৬৪ জন।

বাংলাদেশে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। শহর-বন্দর, গ্রামে-গঞ্জে একই অবস্থা। একসময় করোনা ছিল শহরকেন্দ্রিক।

স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলমের মতে, এখন যারা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের অর্ধেকেরও বেশি গ্রামাঞ্চলের। ৪৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে তিনি এই মতামত জানিয়েছেন সাংবাদিকদের কাছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক শনাক্তের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। প্রাণহানির দিক দিয়ে ১২তম স্থানে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। মৃত্যুও বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এক সপ্তাহে মারা গেছেন এক হাজার ৪৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। এ সময় মারা যান ১৬৪ জন।

এর আগে একদিনে এত মৃত্যু বাংলাদেশ দেখেনি। আক্রান্ত্রের সংখ্যাও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ৯ হাজার ৯৬৪ জন শনাক্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

জন-স্বাস্থ্যবিদ ডা. আব্দুন নূর তুষার বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে 'রেড অ্যালার্ট' বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পরিস্থিতি ভয়াবহ। লকডাউন সত্যিকার অর্থে কার্যকর না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যেতে পারে। ভয়েস অফ আমেরিকার এই সংবাদদাতাকে ডা. তুষার বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য আমরাও অনেকটা দায়ি। গত ঈদের সময় যারা বাড়ি গেলেন, তারাই গ্রামে-গঞ্জে করোনা ছড়িয়ে এসেছেন। তখন ঢাকায়ও দোকানপাট, গণপরিবহন সবই চালু ছিল। সরকার মানা করেছে গ্রামে না যেতে, কিন্তু কেউ শুনেনি।

শনাক্ত আর মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। সোমবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৪ই জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে। লকডাউনের পঞ্চম দিনে এসে রাজধানীতে আইন না মানার প্রবণতাই ছিল বেশি। রিকসা শুধু নয়, রাজপথ ছিল প্রাইভেট গাড়িতে ঠাসা। কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এর কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

বলা হচ্ছে, চারদিন পর ব্যাংক খোলার কারণে রাস্তায় জনস্রোত বেড়েছে। পাড়া-মহল্লায় দোকানপাট খোলা ছিল। জন-স্বাস্থ্যবিদরা এই প্রবণতায় দারুণভাবে হতাশ। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সংক্রমণ থামানো যাবেনা।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চারজন করোনা রোগীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। মৃতদের পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, অক্সিজেন সংকটেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা সরাসরি এই অভিযোগ স্বীকার করেননি। তারা বলেছেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু না থাকায় বোতলে করে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগীর চাপের সঙ্গে পাল্লা দিতে আরও অক্সিজেন প্রয়োজন।

XS
SM
MD
LG