অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বয়স্ক আমেরিকানদের কাছে কিছুটা জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৪ মাস বাকী। কোভিড-১৯সহ নানা সমস্যায় নিপতিত আমেরিকার জনগন এই মুহুর্তে নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন এমন জরিপে দেখা যাচ্ছে বয়স্ক আমেরিকানদের কাছে জনপ্রিয়তা কিছুটা হারাচ্ছেন রিপাব্লিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। সহকর্মী মাইক ও সালিভান এ নিয়ে করা তার প্রতিবেদনে বলেন সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্যে খানিকটা হাতাশাজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৪ মাস বাকী। কোভিড-১৯সহ নানা সমস্যায় নিপতিত আমেরিকার জনগন এই মুহুর্তে নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন এমন জরিপে দেখা যাচ্ছে বয়স্ক আমেরিকানদের কাছে জনপ্রিয়তা কিছুটা হারাচ্ছেন রিপাব্লিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। সহকর্মী মাইক ও সালিভান এ নিয়ে করা তার প্রতিবেদনে বলেন সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্যে খানিকটা হাতাশাজনক।

please wait

No media source currently available

0:00 0:07:20 0:00

মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বয়স্ক আমেরিকানদের সহায়তার জন্যে ইনসুলিনের দামের একটি নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করে দেন, “স্বাস্থ্য বিমায় ইনসুলিনের দাম মাসে ৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হবে”।

তবে নির্বাচনী যুদ্ধে ফ্লোরিডা ও এ্যারিজোনায়, সিনিয়র বা বয়স্করা একটি বড় শক্তি; বললেন তুকসনের সাবেক ডেমোক্রেটিক মেয়র থমাস ভলগি, “আরো গুরুতবপূর্ন হলো ৬৫ বছরের বেশী বয়সী মানুষর সংখ্যা বেশী। ফলে এতে করে শুধুমাত্র ভোটারের সংখ্যা বা শতাংশের হিসাবেই নয়, কারা ভোট দিতে যায় সেটাও বড় বিষয়”।


যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিক নিউজার্সির প্লেইনসবরোর কাউন্সিলম্যান বাংলাদেশি আমেরিকান ড. নুরান নবী এ বিষয়ে বলেন, “এটা সত্য যে চারমাসে ভোটের মাঠে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে, কিন্তু কোভিড-১৯ ও বর্ণবাদ বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কাজকর্ম ভোটারদেরকে অনেকাংশেই প্রাভাবিত করবে”

সাম্প্রতিক সময়ের ভোটের জরিপে দেখা যায় ট্রাম্প কিভাবে অর্থনীতিকে চালিত করেছেন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।

তবে নাগরিক সংকট, বর্ণ বৈষম্য, কোভিড-১৯ মহামারী, এ সবগুইলো বিষয়ই এখন ভোট জরিপে ডেমোক্রেটিকদের জন্য সহায়ক হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের পক্ষে যাচ্ছে্।

জরিপে জো বাইডেন বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের চেয়ে জনপ্রিয়তার নিরিখে সামন্য এগিয়ে।

অন্যান্য আরো দুটি জরিপে বাইডেন ৮ পয়েন্ট এগিয়ে ট্রাম্পের চেয়ে। হোয়াইট হাউজ অবশ্য সাম্প্রতিক কুছু জরিপকে সঠিক নয় বলেছে। তবে জরিপকারীরা বলেছেন ঠিক আছে।

কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম মালয় যেমনটি বলেন, “তিনি সঠিক দিকে যাচ্ছেন না। অথচ নভেম্বরের নির্বাচনের তারিখ দ্রুত এগিয়ে আসছে।

বহু বয়স্ক ভোটার কাকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্ত ঠিক করেই রেখেছেন। নেব্রাস্কার অবসরপ্রাপ্ত নার্স ক্যাথী তাদের একজন, আমি এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তেখতে চাই যিনি মানুষের মাঝে থাকেন, তার মতো ব্যাবসা, অর্থ এসব নিয়ে থাকেন না”।

তবে অন্য অনেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থণ করেন। এড লিউ তাদের একজন, “ট্রাম্প যা যা করছেন তার সবকিছু আমি সমর্থন করি না, তবে আমার জানা মতে তিনিই এখনো পর্যন্ত এমন একজন রাজনীতিক যিনি নির্বাচনী প্রচারণায় দেয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন”।

নিউইয়র্কের অধিবাসী গেরি ওশেয়া বলেন, “আমি মনে করি তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি নিজেই জানেন না তিনি কি করছেন. মনে হয় তিনি সকালেই ঠিক করেন আজ কি কি করবেন”।

ট্রাম্প সমর্থক জুলি কিরখাম মনে করেন বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবার যোগ্য নন, “তার সেই দম নেই। তার অনেক দুর্বলতা আছে। রাজনীতিক হিসাবে অতীতে তিনি এমন কিছুই করেনি নি”।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী বাইডেন সামগ্রিক হিসাবে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্পের চেয়ে। জাতীয় জরিপের হিসাবে বাইডেন ৫০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।

ইউনিভার্সির্টি অব এ্যারিজোনার শিক্ষক থমাস ভলগির মতে, “৫০ শতাংশ পয়েন্ট খুব বড় ব্যাবধান নয়; এ দিয়ে নির্বাচনে হারানো খুব কঠিন। তবুও বাইডেন ৫০ শতাংশ ভোটারের সমর্থনে আছেন”।

বিশ্লেষকদের মতে এখনো আনেক সময় বাকী। আগামী চার মাসে অনেক কিছু বদলে যাবে। ২০১৬ সালে কোনো জরিপেই ট্রাম্প ভালো করেন নি, কিন্তু নির্বাচনে তিনিই জিতেছিলেন।

যেটি পরিবর্তিত হবে না তা হলো বয়স্ক আমেরিকানদের ভোটের সিদ্ধান্ত। অনেকেই মনে করেন বয়স্ক আমেরিকানদের ভোট নির্বাচনের জয় পরাজয়ে বড় অবদান রাখবে।

XS
SM
MD
LG