অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মারা গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গ


মারা গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গ

৮৭ বছর বয়সে মারা গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গ। দীর্ঘকাল নানা ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে শুক্রবার তিনি ওয়াশিংটনে মারা যান।

নারী অধিকার আদায় ও বৈষম্য নিরসনে তিনি আজীবন কাজ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জন্ম হয় নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে।

রুথ বেডার গিন্সবার্গ
রুথ বেডার গিন্সবার্গ

কলেজে তৃতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবি হবার। ১৯৫০ সালের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকীতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন ভিতিকর অবস্থা চলছে সেই অবস্থা তাঁকে আরো উৎসাহ যোগায় আইনজীবী হতে।

গিন্সবারগ বলেন, "কিছু সাহসী আইনজীবী ছিলেন যারা ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাদের সিনেটকে স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের কথা। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর দিকে তাকান, এটা কি বলে? আইনজীবীরা যদি আমাদের সবচেয়ে মৌলিক মূল্যবোধে ফিরে আসতে সাহায্য করতে পারেন, তাহলে আমি সেটাই হতে চাই।"


১৯৯৩ সালের ১০ই আগষ্ট রুথ গিন্সবার্গ দ্বিতীয় নারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন। তিনি এমন এক সময়ে আইনি পেশায় প্রবেশ করেন যখন খুব কম নারীই পেশায় আসেন।

গিন্সবার্গের পিতামাতা তাঁকে আইন পড়তে নিরুৎসাহিত করেন, এই ভয়ে যে তিনি পুরুষ অধ্যুষিত পেশায় চাকরি পাবেন না। কিন্তু গিন্সবার্গ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। ১৯৫৪ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করার পর, তিনি হার্ভার্ড ল স্কুলে ভর্তি হন।

গিন্সবার্গের কথায়, "যখন আমি আইন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন ক্লাসের সংখ্যা ছিল ৫০০ এরও বেশি; আমরা নয়জন নারী ছিলাম।

দুই বছর পর, গিন্সবার্গের স্বামী বিখ্যাত কর উকিল এবং আইনের অধ্যাপক - মার্টিন গিন্সবার্গ, নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি চাকরি নেন, এবং গিন্সবার্গ কলম্বিয়া ল স্কুলে স্থানান্তরিত হন যেখানে তিনি সালে তাঁর ডিগ্রী লাভ করেন।

বাবা-মা যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যে পুরুষের পেশায় তাকে অনেক অনেক বাধার সম্মসুখীন হতে হবে। তাই হয়।

গিন্সবার্গ বলেন, "পুরো নিউ ইয়র্ক শহরে এমন কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না যে আমাকে সুযোগ দিতে ইচ্ছুক ছিল।"

একজন সহানুভূতিশীল অধ্যাপকের সাহায্যে তিনি একটি কেরানিপদ পেয়েছিলেন। এর পরপরই তিনি রাটগার্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল অ্যান্ড কলাম্বিয়া ল স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন।

১৯৭২ সালে গিন্সবার্গ নারী অধিকার প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন, জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী ও মেয়েদের সমানাধিকারের জন্য কাজ করার জন্য।

১৯৭০-এর দশকে, যখন তিনি নারী অধিকার প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন যাতে সংবিধান লিঙ্গ বৈষম্য নিষিদ্ধ করে”।
দুই দশক পরে, রুথ বদর গিন্সবার্গ সেই আদালতের সদস্য ছিলেন, ১৯৯৩ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন দ্বারা নিযুক্ত হন।

সুপ্রিম কোর্টে থাকাকালীন সময়ে, তিনি পরিচিত ছিলেন বেঞ্চের উদারনৈতিক স্পষ্ট কণ্ঠস্বর হিসাবে। গিন্সবার্গ বিশ্বাস করতেন যে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতিবন্ধকতা যুক্তরাষ্ট্রে অদৃশ্য ভাবে রয়েছে।

তিনি বলেন এমন অনেক কিছু রয়েছে যা আদালত আদেশ দিতে পারে না; আমেরিকান সমাজের জন্য এই ধারণা ষ্পষ্ট এবং উন্মুক্ত হতে হবে যাতে নারী এবং পুরুষদের, কাজ এবং পরিবারের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে।

গিন্সবার্গ, স্বামী মার্টিনের ভালবাসা এবং সমর্থনে দুই সন্তানের কর্মজীবী মা হিসেবে তার নিজের জীবনের ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। তার স্বামী ২০১০ সালে মারা যান।

গিন্সবার্গ বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমার এমন একজন জীবনসঙ্গী ছিল, আমার স্বামী, যিনি মনে করতেন আমার কাজ অন্তত তার মতই গুরুত্বপূর্ণ”।

ক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গ
ক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রুথ বেডার গিন্সবার্গ

রুথ গিন্সবার্গ বলেন তিনি সবসময় যা বিশ্বাস করেন তা করার চেষ্টা করেন।

"আমি আশা করি যে আমি এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে স্মরনীয় হয়ে রইবো যে আইনকে ভালবাসে, দেশকে ভালবাসে, মানবতাকে ভালবাসে, প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা প্রদান করে এবং তার যা প্রতিভা আছে তা দিয়ে যতটা সম্ভব পরিশ্রম করে, পৃথিবীকে যতটা সম্ভব ভালো করে তুলতে।"

গিন্সবার্গের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন “তিনি একজন বিস্ময়কর নারী ছিলেন"। মিনেসোটায় এক প্রচারাভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, "বিচারপতি গিন্সবার্গ দেখিয়েছেন যে অন্যভাবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারে"।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বলেন, “সবার জন্য নাগরিক অধিকার, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত পোষনের সুযোগের ক্ষেত্রে গিন্সবার্গ প্রজন্মের জন্য আইনের ভিত্তি তৈরি কের গেছেন"।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, "আমাদের জাতি ঐতিহাসিক মর্যাদার একজন বিচারককে হারিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আমরা একজন প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়েছি"

সেনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল এক বিবৃতিতে বলেন, "বিচারপতি গিন্সবার্গ আইনি পেশা এবং সুপ্রিম কোর্টে তার ২৭ বছরের কাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত থেকে সেবা করে গেছেন।

সেনেট ডেমোক্রেটিক লিডার চাক শুমার বলেন, "নতুন প্রেসিডেন্ট না হওয়া পর্যন্ত গিন্সবারগের এই শূন্যপদ পূরণ করা উচিত নয়" ।

তাঁর মৃত্যুতে শোক জানান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ,

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, সাবেক ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন, মিট রমনী, এরিক ট্রাম্প, অনেকে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:06:13 0:00




XS
SM
MD
LG