অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাজনৈতিক সংকটে বিশ্বের দুই বড় শক্তি যুক্তরাস্ট্র ও যুক্তরাজ্য


চরম রাজনৈতিক সংকটে বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি যুক্তরাস্ট্র ও যুক্তরাজ্য। আশু কোনো সমাধানও দেখা যাচ্ছে না এই সংকটের। যুক্তরাষ্ট্রে চলছে শাটডাউন বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মে আংশিক বন্ধ অবস্থা আর যুক্তরাজ্যে চলছে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসন্তোষ। কি এর সমাধান তা এখনো অনিশ্চিত।

চরম রাজনৈতিক সংকটে বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি যুক্তরাস্ট্র ও যুক্তরাজ্য। আশু কোনো সমাধানও দেখা যাচ্ছে না এই সংকটের। যুক্তরাষ্ট্রে চলছে শাটডাউন বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মে আংশিক বন্ধ অবস্থা আর যুক্তরাজ্যে চলছে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসন্তোষ। কি এর সমাধান তা এখনো অনিশ্চিত। এ নিয়ে জ্লাটিকা হোকের প্রতিবেদন থেকে তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতকিক রাজনীতি বিশ্লেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের অধ্যাপক হোসেইন কবীরের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট করছেন সেলিম হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার খরচ বাবদ ৫.৭ বিলিয়ন বা ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দে ডেমোক্রেটদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমঝোতা না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যায় বরাদ্দ আটকে আছে, ফলে চলছে শাটডাউন বা সরকারী কাজকর্মের আংশিক বন্ধ অবস্থা। ২২শে ডিসেম্বর থেকে চলছে এ অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ্যাতো লম্বা সময়ের জন্যে শাটডাউন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নতুন সদস্যরা শাটডাউন বন্ধে সেনেটে একটি ভোটাভুটি করার অনুরোধ জানিয়েছেন বুধবার।

অপরদিকে ব্রেক্সিট চুক্তি বৃটেনের সংসদে পরাজিত হওয়ায় যুক্তাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র বিরুদ্ধে অসন্তোষ আসে। এ থেকে সামান্য ব্যবধানে তাঁর পক্ষে রায় আসলেও যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে তাতে পরিস্কার বোঝা যায় বৃটেনবাসী ব্রেক্সিট পছন্দ করেন নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের নতুন কয়েকজন সদস্য সেনেটে শাটডাউন বন্ধে অর্থাৎ সরকারের কাজকর্ম চালু করার লক্ষ্যে এ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল নিয়ে একটি ভোটাভুটি করার অনুরোধ জানিয়েছেন। মিনেসোটার নব নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান ইলহান আব্দুল্লাহি ওমার এ নিয়ে বলেন:

“আমরা সেনেট মেজরিটিকে বিল পাঠিয়েছি; তারা ভোট করেছে; এখন আমরা তাদেরকে সুযোগ দিচ্ছি নেতৃত্ব দেখানোর যেনো বিল পাশ করতে প্রশাসনের অনুমতির দরকার না হয়”।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ৮ লাখ কর্মচারী; যারা শাটডাউনের সময় ফার্লোতে থাকায় বেতন পাননি, তাদের বেতন দেয়া যায়। তবে প্রেসিডেন্ট বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা বাবদ বরাদ্দ না পাশ হওয়া পর্যন্ত তিনি শাটডাউন বন্ধ করবেন না।

ওদিকে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বেকায়দা অবস্থায় রয়েছেন। ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট বিষয়ক চুক্তি নিয়ে তিনি নিজের দলের আইনপ্রনেতাদের বিরাগভাজন হয়েছেন।

পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান দু্ই গনতান্ত্রিক দেশে অনেকটা সাধারন দুইটি বিষয় নিয়ে সংকটে পড়েছে বলে মনে করেন UNIVERSITY OF NORTH CAROLINA অধ্যাপক KLAUS LARRES;

“ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল ২০১৬ সালে; ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তার কয়েক মাস পরই। এর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। কারন ২০১৬ সালটি লোকানোবর্তি বা সাধারণ বিষয় বড় করে দেখার মতো রাজনীতি শুরুর বছর এবং এতে দুটি শিবির একে অন্যের সহযোগীতা করে”।

ল্যারস উল্লেখ করেন ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রেক্সিট নেতা নিগেল ফারাগে উন্মুক্তভাবে একে অপরকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন ট্রাম্পের দেয়াল নির্মান ইসু এবং বৃটেনের ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন থেকে সরে আসা; দুটি ঘটনাই এমন যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এবং অভিবাসনের ওপর কিছুটা শংশয়ের সঞ্চার হয়।

ক্লাউস ল্যারস এ নিয়ে বলেন,

“অর্থনৈতিক ধ্বসের ভীতি; বিদেশীদের নিয়ে ভীতি; শরনার্থী ভীতি; নিজস্ব পরিচয় বা জাতীয়তা হারানোর ভয়; এর সবগুলো বিষয়ই যুক্তরাষ্ট্র এবং যুকক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সংকট অবস্থার সঙ্গে যায়”।

বিশেজ্ঞদের মতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এই সংকট যতো গভীর ও প্রলম্বিত হবে, গোটা বিশ্বে এই দুই দেশের প্রভাব ততো কমতে থাকবে। আর সেই সুযোগ নেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্লাউস ল্যারস বলেন;

“আমার মনে হয় না পুতিন এ থেকে সরাসরি কোনো ফায়দা নিতে পারবেন। তবে শক্তিশালি কোনো পশ্চিমা দেশের মধ্যে এ ধরনের যে কোনো সঙ্গতি, হোক সেটা যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র; বা অন্য কোনো পশ্চিমা দেশ; পরিস্কার কথা হচ্ছে সেটা ওইসব দেশের মিত্রদের জন্য ভালো খবর নয়”।

ল্যারস বলেন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শাটডাউন বন্ধ হবেই, তবে এমন এক সময় বন্ধ হবে যখন দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু করবে। বৃটেনের বিষয়েও তার কথামতে ওই সংকট হয়তো আরো একটি গনভোটের দিকে ঠেলে দেবে যাতে ভোটাররা ২০১৬ সালের ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার ভোটাভুটির যে ফল ভোগ করছেন সেটা মাথায় রেখে ভোট দেবেন। এখন সবকিছুই সময়ে ব্যাপার। দেখা যাক কি হয়।

এ নিয়ে বলেছি আন্তর্জাতকিক রাজনীতি বিশ্লেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের অধ্যাপক হোসেইন কবীরের সঙ্গে।

XS
SM
MD
LG