অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ করছে মিয়ানমারের মিডিয়া 


ফাইল ফটো: রোহিঙ্গা শরণার্থীরা শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পর হেঁটে যাচ্ছে বাংলাদেশের কক্সবাজারের কাছে পালং খালিতে। ১৯ অক্টোবর ২০১৭।

অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ফেসবুকের গণহত্যার কনটেন্ট প্রকাশে রায় দিয়েছে। এ রায় ঘোষণার আগে থেকেই মিয়ানমার বলতে শুরু করেছে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পুরনো এবং নতুন সশস্ত্র মুসলিম দলগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ এসব অভিযোগ অনেক আগেই একাধিকবার ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে । বলেছে-এ সবই অপপ্রচার । মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকেও ডেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ফেডারেল আদালতের রায়ের পর মিয়ানমার খুবই চিন্তিত।ফেসবুক যদি এ কনটেন্টগুলো প্রকাশ করে তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে কীভাবে মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছিল। তারা পাল্টা বলছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নাশকতা চালিয়ে গোটা পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলেছে। এবং তারা বলতে চাচ্ছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে। যদিও তাদের এ সংবাদে আন্তর্জাতিক মহলের কোন সমর্থন পাওয়া যায়নি।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে।প্রত্যাবাসনের কোনো উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। এই অবস্থায় মিয়ানমারের গণমাধ্যম বলছে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন এবং আব্দুল্লাহ কেনের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী তৎপরতা চালাচ্ছে।১৯৮০-এর গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠা হয়েছিলে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন। মিয়ানমারের মিডিয়া বলছে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশ সীমান্তে মংডু টাউনশিপের নিরাপত্তা চৌকিতে প্রায়ই হামলা চালিয়ে আসছে। সংবাদমাধ্যম ইরাওয়াদ্দি বলছে, রাখাইন রাজ্যের মুসলিম গ্রামবাসীরা তাদের কাছে অভিযোগ করেছে, যারা একসময় এআরএসএ-কে সমর্থন করেছিল তারাই হামলার মুখে পড়েছিল।

২রা সেপ্টেম্বর মংডুর একজন গ্রাম প্রশাসককে ডাকাত মনে করে গুলি করে হত্যা করা হয়।গ্রামবাসীরা জানান, সীমান্তরক্ষী পুলিশ দ্বারা পরিচালিত সেখানে একটি চেক পয়েন্ট রয়েছে। সেনারা সে সময় গ্রামের স্কুলে অবস্থান করছিল। তা সত্ত্বেও সেই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আব্দুল্লাহ কেনের বাহিনীকে দায়ী করেছে। অথচ আব্দুল্লাহ কেন দুইবার কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মিয়ানমারের মিডিয়া বাংলাদেশ থেকে মংডুতে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছে।

এ ছাড়া তারা একটি ভিডিও প্রচার করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের যোদ্ধারা কীভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বাংলাদেশের কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে একটি গ্রুপ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম অভিযোগ করেছে। নিরপেক্ষ কোন সুত্র থেকে মিয়ান্মার মিডিয়ার এই সব অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

XS
SM
MD
LG