অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

২০২০ সালে বিশ্বের নানা স্থানে মানুষ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর মঙ্গলবার মানবাধিকার সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, জনগণের প্রাত্যহিক জীবনাচরণে বাক্তি স্বাধীনতা, ব্যাক স্বাধীনতা, জনগণের সঙ্গে সরকারের আচরণ, ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রতিবাদনে বলা হয়েছে ২০২০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর সংখ্যক মানুষ নির্মম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।

ব্লিনকেন চীন সরকারকে তার সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীর সাথে আচরণকে "গণহত্যা" বলে অভিহিত করেন।

প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া, মিয়ানমার, ইরানের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কথাও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং সংবাদ মাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে বলে বলা হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট রিজওয়ানা হাসান বলেন তিনি প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত।

প্রতিবেদনে রাশিয়া ও বেলারুশের মতো দেশে সমালোচক এবং সাংবাদিকদের কারাবন্দী করা অন নির্যাতন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ওয়াশিংটন ডিরেক্টর, সারা হোলউইনস্কি বলেন, প্রতিবেদনে বৈদেশিক নীতির প্রশাসনিক পরিবর্তনকে তুলে ধরা হয়েছে।

"যখন আপনি 'মানবাধিকার লঙ্ঘন' এর সংজ্ঞাটি দেখেন, দেখা যায় সেখানে ইরান রয়েছে, এবং আমি মনে করি যে মানবাধির লংঘনের এই অপব্যবহারগুলি কী এই প্রশাসন তা জানাতে আগ্রহী।"

পররাষ্ট্র দফতরের এবারকার রিপোর্ট সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়ন জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন আগের প্রশাসনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন মানবাধিকার নিয়ে বেশি চিন্তা করে এটা স্বস্তির বিষয়।

ব্লিংকেন মিয়ানমারের সংঘাতের কথে তুলে ধরে বলেন নভেম্বরে অং সান সু চির জাতীয় লীগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টির নির্বাচনে জয়ের পরে সেখানে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। এবং পরে মিয়ানমারে সহিংসতা বাড়তে থাকে।

হোলউইনস্কি বলেন প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্থদের মর্যাদা এবং জবাবদিহিতার কথা বলা হয়েছে।

"সরকারসমূহ যত বেশি এই ধরণের মানবাধিকারের প্রতিবেদন তাদের নীতিমালায় প্রয়োগ করবে, তাতে মানবাধিকার নিয়ে অন্তত ভাবার অবকাশ বাড়বে।"

হোলউইনস্কি বলেন মানবাধিক্র বিষয় নীতিনির্ধারণে থাকলে এক দেশের অন্য দেশের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র প্রেরণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।


মন্তব্যগুলো দেখুন

XS
SM
MD
LG