অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মোবাশ্বের হাসান অপহরণ হবার ৪৪ দিনের দুঃসহ স্মৃতির ব্যক্তিগত অনুভুতির কথা জানিয়েছেন


গুম, অপহরণ বা কথিত নিখোজ হবার ৪৪ দিন পর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মোবাশ্বের হাসান বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নিজ বাসভবনে ফিরে এসেছেন। তাকে বিমানবন্দরের সড়কের পাশে চোখবাধা অবস্থায় ফেলে যাবার কথা জানান মোবাশ্বের। তিনি জানান, অপহরণের পরে পুরোটা সময় তাকে অজ্ঞাতস্থানে অন্ধকার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। কোনো ধরনের মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল কিনা এ প্রশ্নে মোবাশ্বের বা তার পিতা-মাতা কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বলছেন না। মোবাশ্বের জানান, তিনি অপহরণকারীদের মধ্যে এই মর্মে বিতর্ক করতে শুনেছেন যে, তাকে মেরে ফেলা হবে না ছেড়ে দেয়া হবে। তবে মোবাশ্বের হাসান দুঃসহ স্মৃতির এই দিনগুলো সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অনুভুতির কথা জানিয়েছেন।
কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা কিংবা কোন উদ্দেশ্য অপহরণ করা হয়েছিল এসব প্রশ্নে কোনো কথা বলেননি মোবাশ্বের। তিনি বা কিছুদিন আগে ফিরে আসা সাংবাদিক উৎপল দাসসহ যারাই ফিরে এসেছেন অপহরণের পরে-তারা এসব প্রশ্নে জবাব দেন না বা কৌশলে এড়িয়ে যান। আইন-শৃংখলা বাহিনীও এ প্রশ্নে নিরত্তর থাকেন বরাবর। কিন্তু কেন সেটাই রহস্যপূর্ণ বিষয়।
যারা ফিরে আসেন তারা এ প্রশ্নে কথা বলেন না কেন এবং গুম বা অপহরণের ঘটনা কেন ঘটছে সে প্রশ্নে বিশ্লেষণ করেছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকার সক্রিয়বাদী এবং মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর প্রধান নির্বাহী আদিলুর রহমান খান।
এদিকে, বাংলাদেশে গুম বা অপহরণের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছরের ১১ মাসে অর্থাৎ নভেম্বর পর্যন্ত হিসেবেই ৮০ জন মানুষ গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব বলছে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯০ জন। গত কয়েক বছর ধরে এই সংখ্যা বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের ৩২০ জন গুম হওয়া মানুষের উপরে গবেষণা চালিয়ে এক প্রতিবেদনে বলেছে, এদের অর্ধেকই আর ফিরে আসেননি। যারা গুম বা অপহরণের শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে সাবেক ক‚টনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষও রয়েছেন। গুম বা অপহরণ আতংকের এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ নামক এই সমাজ এবং রাষ্ট্রে।

XS
SM
MD
LG