অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বস্তিতে বেড়ে ওঠা সুমাইয়া আক্তার একটি স্বপ্নের নাম


Sumaiya

রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর পুলপাড় বটতলার বস্তিতে বেড়ে ওঠা সুমাইয়া আক্তার একটি স্বপ্নের নাম ৷ পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। জন্মের পর থেকে বড় হয়েছে সীমাহীন দারিদ্রতার ভেতর দিয়ে। রিক্মাচালক বাবা যেদিন প্যাডেল চাপে সেদিন হয়তো দু'বেলা বা কোনদিন একবেলা খাওয়া জোটে। আর যেদিন কাজে না যায় সেদিন পুরো পরিবারটির চুলোয় হয়তো আগুনই জ্বলেনা।

ভয়েস অব আমেরিকার সাথে আলাপকালে সুমাইয়া জানালো তার স্বপ্নের কথা। তার স্বপ্ন, বড় হয়ে তার মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করবে এবং শিক্ষার ফেরিওয়ালা হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে তার মত সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদের মাঝে।

তার বাবা বললেন, “মাইয়া তার এহন ডাঙ্গর হইতাছে । কাম কাইজ ওয়ালা পোলা পাইলেই বিয়া দিয়া দিমু। সংসার ই চলেনা আবার পড়ালেহা!"

সুমাইয়া এখন ক্লাস সিক্সে পড়ে। এরমধ্যে ওর বাবা এক রিক্সাওয়ালার সাথে বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু সুমাইয়ার একটাই কথা, এখন ওসবে সে আগ্রহী না। আগে লেখাপড়া করে তার স্কুলের স্যারদের মত একজন স্যার হতে হবে। পরে তার মত সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের শিক্ষা দেবে, তারপর বিয়ে। এখনও তার বাবা আর ঐ রিক্সাচালক সুমাইয়াকে বিয়ের বিয়ের জন্য বিরক্ত করলেও তার ঐ এক কথা।

পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার বাসনা তার সেই ছেলেবেলা থেকেই। কথায় আছেনা, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। ও ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো, তাদের খুপড়ি ঘরের পাশের উচু দালানের খুকিদের মতো রোজ সকালে আম্মুর হাত ধরে যেভাবে স্কুলে যেতে, তাকেও তার মা ঐভাবে স্কুলে নিয়ে যাবে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় তা আর হয়ে ওঠে নাই। স্কুলে ভর্তি হয়েছে কিন্তু যেতে পারেনা রোজ। কখনো কখনো মায়ের সাথে মানুষের বাসায় কাজ করে কেজি দেড়েক কি দুয়েক চাল কিনে তা চুলোয় বসায়। সুমাইয়া পড়ালেখার পাশাপাশি ছবি আঁকা ও নাচতে ভালোবাসে৷ তার মায়ের সাথে কথা বলে জেনেছি, ও স্কুল পর্যায়ে আঁকা ও নাচে বেশ কয়েকবার পুরস্কারও পেয়েছে।

এখন সে পড়ে ‘স্কুল অব হিউম্যানিটি’ নামক একটি স্কুলে। স্কুল অব হিউম্যানিটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি প্লাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটি সুমাইয়ার মতো অদম্য মেধাবীদের নিয়ে কাজ করে। ওদের লালিত স্বপ্নগুলো নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামনে এগুতে সহায়তা করে এ প্রতিষ্ঠানটি।

শরীফ মুজিব, ঢাকা।

XS
SM
MD
LG