অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্যান্ডার্স বাইডেন নাকি অন্য কেউ?


নেভাদা ককাসে বার্নি স্যান্ডার্সের জয় এবং ৩রা মার্চের সুপার টুইসডেতে ১৪টি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছের ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা চুড়ান্ত হবার বিষয়।

নেভাদা ককাসে বার্নি স্যান্ডার্সের জয় এবং ৩রা মার্চের সুপার টুইসডেতে ১৪টি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছের ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা চুড়ান্ত হবার বিষয়।


আর এবারকার নির্বা্চন সামাজিক মাধ্যম কিভাবে প্রাভাবিত হবে এ দুটি বিষয় নিয়ে সেলিম হোসেন কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুন পেশাজীবি রেদোয়ান চৌধুরীর সঙ্গে।

নেভাদা ডেমোক্রেটিক ককাসে জয়লাভের মধ্যে দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতার প্রতিযোগীতায় বার্নি স্যান্ডার্স এগিয়ে আছেন। ভয়েস অব আমেরিকায় আমাদের সহকর্মী মাইক ও সালিভান তার এক রিপোর্টে বলেন জাতিগত ভিন্নতার দিক দিয়ে সবচেয়ে বৈচিত্রময় রাজ্য নেভাদায় জয়লাভ করায় আগামী ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সুপার টুইসডেতে দলীয় ভোট পাবার সম্ভাবনার দিক দিয়ে স্যান্ডার্স এগিয়ে থাকবেন বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন।

আইওয়াতে সমান সমান অবস্থান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাদায় পরিস্কার জয়ের পর বার্নি স্যানা্ডার্স দলীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।


“আমার ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা শুধু ট্রাম্পকে পরাজিত করতে পারবো তাই নয়; আমরা এমন একটি দেশ গড়তে পারবো, এমন একটি সরকার গঠন করতে পারবো যাতে, শুধু ধনীদের নয়, সকল আমেরিকানের উপকার হয়, অর্থনৈতিক সাফল্য আসে”


নেভাদা ককাসে জো বাইডেন দুরত্বপূর্ন ব্যবধানে থেকে দ্বিতীয় হলেও নিরাশ নন। সমর্থকদের উদ্দে্শ্যে তিনি বলেন; “গনমাধ্যম প্রস্তুত মানুষকে দ্রুত মৃত ঘোষণার জন্য; কিন্তু আমরাতো জীবিত; আমরা ফিরে আসছি; এবং আমরা জিতবো।”

নেভাদায় তৃতীয় স্থানে থাকা সাউথ বেন্ড ইন্ডিয়ানার সাবেক মেয়র পিটে বুটিগেগ বার্নি স্যানা্ডার্সকে অভীনন্দন জানালেও বামপন্থী রাজনীতির সমালোচনা করেন: “সেনেটর স্যান্ডার্স একটি অনমনীয় আদর্শিক বিপ্লবে বিশ্বাস করেন যা বেশীরভাগ ডেমোক্রেট বিশ্বাস করেন না; আমেরিকানরাও না।”

সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন চতুর্থ স্থানে। ওয়ারেনের অনেক সমর্থক স্যান্ডার্সকে ভোট দিয়েছেন। কিম্বারলি কারের মতো অনেক ভোটার মনে করেন একজন নারী প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন: “আমাদের সত্যিই একজন নারী প্রেসিডেন্ট দরকার। আমার মতে ওয়ারেন অত্যন্ত যোগ্য একজন প্রার্থী। তিনি পে্রসিডেন্ট হলে আমি খুশী ও গর্বিত; কিন্ত আমাদেরকেতো বাস্তবতা মানতে হবে। যখন আপনি দেখবেন ৭৫জন লোক একদিকে আর ৫ জন আরেক দিকে তখন কি করবেন- আপনাকে সেদিকেই যেতে হবে।”

নেভাদা ককাসে সেনেটর এমি ক্লোবুসার ওবং ব্যবসায়ী টম স্টেয়ার অনেক পেছনে। কর্লিস গেইনস নামের এই ভোটারের প্রথম পছন্দ ষ্টেয়ার থাকলেও তিনি বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন: “বাইডেনই সঠিক প্রার্থী। স্যান্ডার্স- নাহ।”

মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটদের মধ্যে বার্নি স্যান্ডার্সের অনেক সমালোচনা রয়েছে। তবে জাতিগতভাবে বৈচিত্রপূর্ন রাজ্য নেভাদা, যেখানে ৫ জনের মধ্যে একজন হিস্প্যানিক; সেখানে জিতে সেখানকার ভোটারদের কাছে তিনি তাঁর বক্তব্য পরিস্কার করতে পেরেছেন। শনিবার সাউথ ক্যারোলাইনায় এবং ৩রা মার্চে সুপার টুইসডেতে ১৪টি রাজ্যে তিনি কতোটা চ্যালেল্জের মুখোমুখি হন সেটিই এখন প্রশ্ন।

যুক্তরাস্ট্রের এবারকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমে বেশ শক্তিশালি প্রভাব ফেলবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়েলসেন রেটিং সার্ভিসের মতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে শির্ষে আছেন আফ্রিকান আমেরিকানরা।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালে যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর বিষয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল। এবারও মস্কো সে চেষ্টা করতে পারে এমন আশংকা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান আমেরিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে আমাদের সহকর্মী ক্রিস সিমকিনস তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন সেখানকার আফ্রিকান আমেরিকানরা সামাজিক মাধ্যমের খবর থেকে সাবধান থাকবেন।

এই রাজ্যের তরুন আফ্রিকান আমেরিকানরা বলেন তারা বেশিরভাগ রাজনৈতিক তথ্য পান সামাজিক মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থি রয়্যাল ক্লেমনসের মতে; “আপনি যা যা জানতে চান সবই আছে সামাজিক মাধ্যমে। আমার মতে তথ্য পাবার জন্যে এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্থান”।

তবে অনেকে বলেন ২০২০ সালের নির্বাচন বিষয়ে যেসব তথ্য আসছে তা তারা যাচাই বাছাই করে গ্রহণ করছেন, সত্য মিথ্যা বিচার বিবেচনা করার জন্য দ্বিতীয় তৃতীয় সূত্র থেকে নিশ্চিত করে নিচ্ছেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আফ্রিকান আমেরিকানদেরকে সামাজিক মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তথ্যে মিথ্যা বানোয়াট থাকতে পারে এমন সতর্কতা দেয়ার কারনে তারা তথ্য যাচাই বাছাই করছেন।

রন উডস নামের সাউথ ক্যারোলাইনার এই ভোটারের বক্তব্য শোনা যাক: “রাশিয়ানরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবে আমেরিকানদের ভোটারদেরকে ভোট না দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে। তারা যদি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে তবে; তারা যদি সা্মাজিক মাধ্যমে তথ্য না দেয়; সেটা অবাস্তব মনে হবে”।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট গোয়েন্দা কমিটির গত বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়া আফ্রিকান আমেরিকানদেরকে সামাজিক মাধ্যমে বেশি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। সাউথ ক্যারোলাইনার নির্বাচন প্রচারণা কর্মী গ্যারেট ম্যাড্যানিয়েলের মতে: “২০১৬ সালে অবশ্যই একটি লাল পতাকা উড়েছিল; বিশেষ করে যখন দেখা গেলো রাশিয়া নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত করেছে তারা- ব্ল্যা লাইভস ম্যাটারের মতো পাতা তৈরী করে তারা তা করেছে।”

যুক্তরাস্ট্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন রাশিয়ানরা মিথ্যা সামাজিক মাধ্যমে পাতা খুলে নানা বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। রাজনীতি বিশ্লেষক টড শ এর মতে: “বড় আকারে বলতে গেছে সামাজিক মাধ্যম, মানুষদেরকে আগের থেকে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষ্রেত্রে প্রস্তুত করে নানা পোষ্ট দিয়ে দিয়ে। এতে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা প্রাভাবিত হন সহজে দ্রুত”।

সেনেট গোয়েন্দা কমিটির রিপোর্ট আনুযায়ী ফেসবুক, টুইটার ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে হাজার হাজার ফেক এ্যাকাউন্ট খুলে এসব করেছে রাশিয়া ইন্টারনেট গবেষণা সংস্থা। হিলারী ক্লিন্টনকে হারানো আর ট্রাম্পকে জেতানোর জন্য এটা করা হয় বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

মনিকা বিকার্ট- ফেসবুকের বৈশ্বিক নীতির প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রনেতাদেরকে তিনি বলেন কিভাবে ফেসবুক ২০২০ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ঠেকানোর চেষ্টা করবে: “যখনই আমরা সন্দেজহজনক কোনো পোষ্ট বা কোনো আপত্তিকর কিছু দেখবো, নাটকীয়ভাবে তা বন্ধ করে দেবো। সেসব শেয়ার কথার উপায়ও অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে”।

সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটর কর্মী ডেভিয়ন পেটি বলেন গত বারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারকার নির্বাচন যেনো সামাজিক মাধ্যমে কোনোভাবে প্রাভাবিত না হয় সে চেষ্টা করছি আমর; “আমি মনে করি ২০১৬ সালে আমাদের যে শিক্ষা হয়েছে এবার তা থেকে আমরা আগেই বিভ্রান্তি ছড়ানো বিষয়ে সতর্ক হয়েছি। বিভিন্ন মাধ্যম নানা ধরনের নিরাপত্তা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে”।

সামাজিক মাধ্যম কোম্পানীগুলো বলছে তারা এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বিগুন করেছেন। নির্বাচন বা রাজনীতি বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে হ্যাকাররা যে কোনো মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য কড়া নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। আফ্রিকান আমেরিকানরাও এবার সতর্ক- তারা যাই দেখুন সামাজিক মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন নিজেদের মতো করে।

XS
SM
MD
LG