অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মা একা ১৪শো কিলোমিটার স্কুটার চালিয়ে বাড়ি নিয়ে এলেন ছেলেকে


ভারতের তেলেঙ্গানার এক মা একা ১৪শো কিলোমিটার স্কুটার চালিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে লকডাউনে আটকে পড়া ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে এনে সারা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী রাজিয়া বেগম নিজামাবাদ জেলার বোধন শহরে একটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। বছর পনেরো আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি থাকেন। ছোট ছেলের বয়েস ১৯, এমবিবিএস পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে অন্ধ্রের নেল্লোরে এক বন্ধুর কাছে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ লকডাউনে আটকে পড়ে। এদিকে মায়ের চিন্তা, ওদিকে ছেলের মন খারাপ, শেষ পর্যন্ত মা ঠিক করেন ছেলেকে নিয়েই আসবেন।

প্রথমে ভেবেছিলেন বড় ছেলেকে পাঠাবেন। কিন্তু পুলিশ অল্প বয়েসি ছেলে দেখে যদি ভাবে বেড়াতে বেরিয়েছে, তাই ঠিক করেন নিজেই যাবেন। অত দূরের রাস্তা গাড়িতে গেলেই ভালো হয় ভেবেও মত পাল্টে ঠিক করেন নিজে স্কুটার চালিয়ে যাবেন। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ৬ই এপ্রিল সোমবার সকালে রওনা হন, ১৪শো কিলোমিটার দূরে নেল্লোরে গিয়ে পৌঁছন পরদিন দুপুরে। সেই দিনই ছেলেকে নিয়ে ফেরার পথ ধরেন, বাড়ি পৌঁছন বুধবার রাতে। সঙ্গে খাবার বলতে ছিল শুধু রুটি আর আচার। ফেরার সময় তো তাও ছেলে ছিল, যাওয়ার সময় শুধুই মনের জোরে অতটা রাস্তা একা স্কুটারে পাড়ি দিয়েছেন।

গতকাল সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর কাছে তিনি বলেন, ভয় করেছে। ধূ ধূ প্রান্তর, ফাঁকা রাস্তা, পথে যত জনপদ সব খাঁ খাঁ করছে। হঠাৎ যদি স্কুটার বিগড়োয় বা শরীর খারাপ লাগে, কী হবে ভেবে একটু নার্ভাস লেগেছে। কিন্তু আমাকে যেতেই হবে ভেবে মনে সাহস এনেছি। মাঝে মাঝে পেট্রোল পাম্পে থেমে জিরিয়ে নিয়েছি, রুটি খেয়ে আঁজলা ভরে জল খেয়েছি, আবার স্কুটারে স্টার্ট দিয়েছি। এখন খুব ক্লান্ত লাগছে, কিন্তু নিশ্চিন্ত! ওঁর এই অভিযানের কথা জানার পর দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। লোকে বলছে, অ্যাথলেটরাও এমন পথশ্রম সইতে পারতেন কিনা সন্দেহ। রাজিয়া বেগম সুপার মম!

XS
SM
MD
LG