অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বানিজ্যিক  প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হতে পারে চীন   


ফাইল ফটো ২২শে ফেব্রুয়ারী, ২০২১ঃ চীন এবং আমেরকার পতাকার কাছে মাস্ক পরিহিত এক মহিলা চীন-যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বক্তৃতা শুনছেন

বিশ্লেষকেরা বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যেতে পারে। মনে করা হচ্ছে প্রায় মেয়াদ উত্তীর্ণ চুক্তির অধীনে চীনের যে বাধ্যবাধকতা আছে তার সময় পেরিয়ে যাবে। ঐ বাধ্যবাধকতাগুলো সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় একটি বিরোধ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।

দুই পরাশক্তি ২০২০ সালে জানুয়ারি মাসের যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি করেছিল তা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে। বাণিজ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে চীন সেই ধারাটি মেনে চলেনি যেখানে মোট ২০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত পণ্য, কৃষি পণ্য, জ্বালানি পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবা চীনকে আমেরিকা থেকে আমদানি করতে বাধ্য করে। ২০১৭ সালের তূলনায় এই অর্থের পরিমাণ ছিল বেশি। বাণিজ্য যুদ্ধের আগে চীন ২০১৭ সালে ১৮৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও পরিষেবা কিনেছিল।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক একটি গবেষণা গ্রুপ, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এ অর্থনীতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ গুডম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের বিমান ক্রয় বিলম্বিত এবং মহামারী সম্পর্কিত বিপর্যয়ের কারণে চীনেরও তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে সমস্যা হয়েছে।

গুডম্যান ভিওএ-কে বলেন, "আমি মনে করি যে বাইডেন প্রশাসন এই চুক্তি অনুসরণ করবে এবং চীনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। " "আমি এমন কোন কারণ দেখছি না যে তারা পথ পরিবর্তন করছে।"

ওয়াশিংটনের আরেকটি গবেষণা সংস্থা পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্সের সিনিয়র ফেলো চাড বওনের বিশ্লেষণ অনুসারে চীন অক্টোবর পর্যন্ত তার আমদানি ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬২ শতাংশ পূরণ করেছে।

এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বাশার মালকাউই বলেন, আমেরিকান নির্মাতাদের চীনে যেসব পণ্য যাওয়ার কথা সেসব চাহিদা পূরণের সক্ষমতার অভাব থাকতে পারে। তিনি বলেন, চীনের মহামারীর সময়ে সীমান্ত বন্ধ থাকার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বিরোধ প্রায় চার বছরের পুরনো যা ট্রাম্পের সময় শুরু হয়েছিল। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার কারণে চীনে উৎপন্ন ৩৫০ বিলিয়ন ডলারসহ মোট ৫৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। ট্রাম্পের মেয়াদের সময়কার এই বিরোধের ফলে (দু’দেশের মধ্যকার) বৃহত্তর দ্বিমুখী সম্পর্কের মধ্যেও শীতলতা দেখা দেয়।

এই প্রতিবেদনে যে প্রশ্ন করা হয়েছে যে চীন চুক্তিটি পূরণ করেছে কিনা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর এর কোন জবাব দেয়নি। ২০২২ সালে কী ঘটতে পারে তার আভাসও এদের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি।

XS
SM
MD
LG