অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার গ্রান্ডি


বিশ্ব শরণার্থী দিবসে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি...

"আপনি জানেন, যদিও বিগত বছরগুলিতে মিয়ানমার সুশাসন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের পথে ছিল, আবার সেই সময়ের মধ্যে, দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালিয়েছে। রোহিঙ্গারা মুসলিম সংখ্যালঘু, যারা ঐতিহ্যগতভাবে মিয়ানমারের যে অংশে তারা বসবাস করে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। সেনাবাহিনীর সেই তাণ্ডব ছিল ভয়ানক মানবাধিকার লঙ্ঘন। সেইসময়, এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক মানুষ পালিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।।

আমরা কয়েক বছর ধরে মিয়ানমারের বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি যারা তখন ক্ষমতায় ছিল। রাখাইন রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করার জন্য, যাতে তারা তাদের ঘরে ফিরতে পারে।

"আমরা বিশাল অগ্রগতি করেছি" এটা বলা, অতিরিক্ত ইতিবাচক হবে। তবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা রাখাইন রাজ্যে যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায় সহাবস্থান করতে পারে সেজন্য একটি প্রোগ্রাম শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। এখন, এই সব বন্ধ হয়ে গেছে, যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন। দুই বছর আগে যখন একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে তখন থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। সামরিক বাহিনীর অভিযানের কারণে, শুধু রাখাইন রাজ্যে নয়, সারাদেশে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সংঘাত বেড়েছে। এর ফলে দেশের ভেতরে অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মানবিক সংস্থাগুলির কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

তাই আবারও বলছি, এখানে প্রথম পদক্ষেপটি হল দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, এবং ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের দেশকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতে রাজি করানো, যে পদক্ষেপ তারা কয়েক বছর আগে গ্রহণ করেছিল। এর পরে, আমি মনে করি রোহিঙ্গাদের সমস্যার মত জটিল সমস্যা সহ দেশের অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এটি এখন একটি বৃহত্তর মানবাধিকার এবং মানবিক চ্যালেঞ্জের অংশ।"

XS
SM
MD
LG