অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিএসএফের হাতে ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তা আটক


অধৈভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে বিএসএফ এর হাতে আটক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত)সোহেল রানা।

অধৈভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ওই দেশের সীমান্তরক্ষী-বিএসএফ এর হাতে আটক হয়েছেন ঢাকার বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত)সোহেল রানা। তিনি ই কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পরিচালকদের একজন। তার বোন সোনিয়া মেহজাবিন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। গ্রাহকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একজন গ্রাহক।ওই মামলায় সোহেল রানাও আসামি।বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এই প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়েছিলেন।


ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ শুক্রবার সোহেল রানাকে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা থেকে আটক করে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করেছে। আটকের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর বিষয়টি বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি ও পুলিশের নজরে আসে।তবে বিএসএফ’র তরফে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বিজিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পুলিশ সদরদপ্তরও এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল নয়।


বিজিবি’র পরিচালক অপারেশন লে.কর্নেল ফয়জুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তারা গণমাধ্যমে দেখেছেন। বিএসএফ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া) হায়দার আলী খান জানিয়েছেন, তারাও বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জেনেছেন।তবে বিএসএফ’র তরফে কিছু জানানো হয়নি।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সোহেল রানা তার কর্মস্থল বনানী থানায় দায়িত্ব পালন করেন।এরপর তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান।বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আজম মিয়া জানান, সোহেল রানা বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে আর তিনি থানায় আসেননি।ছুটি নেননি, রিপোর্টও করেননি।


গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৭ই আগস্ট ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রতারণার শিকার গ্রাহক মো. তাহেরুল ইসলাম। অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা মামলার সিদ্ধান্ত নেন।মামলায় অন্যদের সঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানাকেও আসামি করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করছে গুলশান থানা পুলিশ।


শুরু থেকেই ই-অরেঞ্জের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন সোহেল রানা। তবে অরেঞ্জ বাংলাদেশ নামে প্রতিষ্ঠান খুলতে নেয়া টিআইএন সনদে পরিচালক হিসেবে তার নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এর আগে ই-ভ্যালি, ধামাকাসহ আরো কয়েকটি ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর ব্যবস্থা নিতে শুরু করে সরকার।সম্প্রতি ৫৯০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ধামাকার কর্মকর্তারা লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে এর গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ আসার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বিবরণী তলব করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

XS
SM
MD
LG