অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও আটকের ঘটনা বেড়েছে


ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদ মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের মহামারীকালে এ সংশ্লিষ্ট মন্তব্য বা ঐসব মন্তব্য শেয়ার করার অপরাধে গত অল্প কয়েকদিনেই ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে মামলা, আটক ও কারাগারে প্রেরণের ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েই চলেছে। কর্তৃপক্ষীয়ভাবে সরকার বা তাদের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং কথিত গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বুধ এবং বৃহস্পতিবার অন্তত ৪ জন সাংবাদিকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও ৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঐ ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে। ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টকে স্বাধীন মতামত এবং বাক-স্বাধীনতা খর্বকারী আইন হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম সংক্রান্ত নজরদারী সংস্থা ‘আর্টিকেল নাইনটিন’-এর তথ্য মতে, এ বছরে বিশেষ করে করোনা সংক্রমণ সময়কালে অর্থাৎ এপ্রিল ও মে মাসে অনন্ত ২৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে মামলা দেওয়া হয়েছে। মে মাসেই আটক করা হয়েছে ৮ জন সাংবাদিককে। সংস্থাটির তথ্য মতে, শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঐ আইনে মামলা ও আটক করা হয়েছে এ বছরেই।

বাংলাদেশে নিযুক্ত অন্তত ৯ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার পৃথক পৃথক টুইট বার্তায় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন গণমাধ্যম জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের দেওয়া বস্তুনিষ্ঠ এবং ঘটনানির্ভর তথ্যপ্রবাহ সবদেশেই জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জরুরি। কোভিড-১৯ সংকটকালে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের স্বাধীনতাকে খর্ব করা যাবে না বলে তিনি ঐ বার্তায় উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও প্রায় একই মতামত তুলে ধরে টুইট বার্তা দিয়েছেন, জার্মানী, জাপান, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতগণ। এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মাধ্যমে বাক ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে।
বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপরে বাধা সৃষ্টি, মামলা, আটক ও কারাগারে প্রেরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নজরদারী সংস্থা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজামান।
ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের অপব্যবহার হচ্ছে বলে মনে করেন সাংবাদিক নেতা এবং একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের অপব্যবহার এবং কয়েকজনকে অতি সম্প্রতি আটক ও মামলা করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

XS
SM
MD
LG