অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতে সব মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স


করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ভারতে লকডাউন প্রক্রিয়া এখন তৃতীয় দফার ভেতর দিয়ে চলেছে। এর আগে দুই দফায় লকডাউন করা হয়েছিল, তারপর তা উঠবে উঠবে করেও প্রায় প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই আপত্তি তোলায় লকডাউনের মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি অন্যরকম। দু'বার লকডাউন বাড়ানোর পর তৃতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি ঘোষণার সময় নানা মহল থেকে এই বলে আপত্তি উঠেছিল যে, শুধু মাত্র লকডাউন বলবৎ করে খুব একটা লাভ হবে না। সেইসঙ্গে আস্তে আস্তে জীবন ও জীবিকার একটা ব্যবস্থা না করলে করোনা ভাইরাসে যত লোক মারা যাবে, না খেতে পেয়ে মারা যাবে তার চেয়ে অনেক বেশি। আর দেশের অর্থনীতিও পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে। তাই এবারে মনে হচ্ছে, সেই দিকে একটা ভাবনাচিন্তা চলবে। এই সব বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সবকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স-এ বসেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে সময় মতো ঘোষণা করবেন। তার আগে পর্যন্ত শুধু এইটুকু ধারণা করে নেওয়া যায় যে মুখ্যমন্ত্রীরা আগের মতো আর প্রবলভাবে আপত্তি জানাবেন না লকডাউন এর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য। কারণ প্রতিটি রাজ্যকেই এখন অর্থনীতির চূড়ান্ত একটা বিশৃংখল অবস্থার ভেতর দিয়ে চলতে হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক যাঁরা এক রাজ্য থেকে কাজ করতে গিয়েছিলেন, তাঁরা আটকে পড়ে ঘরে ফিরতে পারছেন না। ফলে এমনিতেও সব কাজ বন্ধ। তবে বিভিন্ন মহল থেকে প্রবল দাবি এবং চাপের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার কয়েকশো ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে যাতে করে শ্রমিকদের নিজের নিজের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা যায়। এই বিষয়টা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের আলোচনা হয়েছে।

একটা জিনিস লক্ষ্য করা গিয়েছে যে বহু বিশেষজ্ঞই যেমন বলেছিলেন, শুধুমাত্র লকডাউন করে সংক্রমণ আটকে রাখা যাবে না, আরো কিছু ব্যবস্থা চাই। সেই ব্যবস্থাগুলো কী, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবক'টি ব্যবস্থা চালু করে তোলা যায়নি। এদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়ছে। সুতরাং দুটোর মধ্যে একটা ভারসাম্য আনা জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। আশা করা যায় মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় এই ব্যাপারে কিছু পথ উঠে আসবে এবং প্রধানমন্ত্রী অচিরেই সেগুলো ঘোষণা করবেন। এবারে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো যে, প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্য বলতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল কে কোন দিন কথা বলতে পারবেন, যাতে মুখ্যমন্ত্রীদের ভেতরে বেশ একটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:56 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG