অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন


ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতি নিজের চোখে দেখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজ্যের ছ'টি জেলার মধ্যে যে দু'টি জেলা ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওপর দিয়ে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরে দেখেন। সঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরও ছিলেন। আজ শুক্রবার বেলা সোয়া দশটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছোয়। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন, তাঁরাও আলাদা হেলিকপ্টার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলি দেখেন। এরপর তাঁরা উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে নেমে বসিরহাট কলেজে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সরকারি আধিকারিকরা ছিলেন। নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। সেই ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়াতে হবে রীতিমতো লড়াই করে। তবে এই রাজ্য যেন মনে না করে যে তারা একা। সারা ভারত এই লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে লড়বে। করোনা ভাইরাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের বিরুদ্ধে এই লড়াইটা খুবই কঠিন, কারণ দুটো পরস্পরবিরোধী বিষয় এতে চলে আসে। করোনা ভাইরাস থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ঘরের ভেতরে থাকতে হয় আর ঘূর্ণিঝড় থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় আসতে হয়। সুতরাং এই লড়াই সহজ নয়। তবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গবাসী লড়ে যাচ্ছেন এবং আশা করা যায় এই লড়াই তাঁরা জিতবেন। আমরা আবারও বলছি যে আমরা পুরো দেশ পূর্ণ শক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রী মোদী এরপরেই বলেন, আজ রাজা রামমোহন রায়ের জন্মদিন। বাংলার এই মহান পুরুষের জন্মদিনে আমি তাঁর জন্মভূমিতে আসতে পেরে কৃতার্থ বোধ করছি। আশা করবো এই যুগপুরুষের জন্মদিন বাংলার মানুষের জন্য সুদিন বয়ে আনবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যবাসী আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন। আপাতত অগ্রিম সাহায্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

মোদী বলেছেন, শীঘ্রই একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গে আসবে। সেই দল রাজ্য সরকারের সঙ্গে বসে কী ভাবে ত্রাণ সাহায্য দেওয়া যায় তার খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন, ৮০ জন এই রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের ১৯ জনই কলকাতায়, অন্য সব জায়গা মিলিয়ে ৬১ জন। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দু'লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে, আর যাঁরা গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।‌ এছাড়াও রাজ্যপাল ধনকর তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে এই বিপদে যে কোনও রকম সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। আর টেলিফোন করে সহমর্মিতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনেক বার যোগাযোগের চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ টেলিফোনে পান। আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে মমতাকে তিনি দুর্যোগে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সকলের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:04:22 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG