অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরফান খান মারা গেছেন


বিশিষ্ট ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ইরফান খান আজ মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। দীর্ঘ দু'বছর ধরে একটি বিরল ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে তাঁর লড়াই চলছিল। কখনো অবস্থা খারাপের দিকে যেত, কখনো একটু ভালোর দিকে। এই রোগভোগে অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি শেষ একটি ছবি করেছেন, "আংরেজি মিডিয়াম" যেটি মুক্তি পাওয়া মাত্র দেশে লকডাউন হয়ে গেল। কাজেই বেশিরভাগ দর্শকই সেটা দেখে উঠতে পারেননি। সারা ভারতে তো বটেই, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তাঁর মতন একজন স্বাভাবিক ও সাবলীল অভিনেতা পাওয়া দুর্লভ ছিল। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতের সব ব্যক্তিরাই বারবার করে বলেছেন, তাঁর অভিনয় আসলে অভিনয় নয়। বোঝাই যেত না যে তিনি অভিনয় করছেন। সব সময় যেন চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যেতে পারতেন তিনি। হিন্দি ছবির মধ্যে "পিকু", "লাঞ্চ বক্স", "হিন্দি মিডিয়াম", "পান সিং তোমর", "লাইফ ইন এ মেট্রো", ইত্যাদি অজস্র ছবি করেছেন। প্রথম আন্তর্জাতিক ছবি করেন ব্রিটিশ প্রযোজনায় "দ্য ওয়ারিয়র", তারপর "নেমসেক", "লাইফ অফ পাই", "জুরাসিক ওয়ার্ল্ড" এ ধরনের বেশ কিছু ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে, যথেষ্ট বড় চরিত্রে বড় ভূমিকায়।

রাজস্থানে একটি গ্রামে তাঁর জন্ম। মা সাঈদা বেগম ছিলেন ওখানকার নবাব পরিবারের মেয়ে।‌ যদিও পরে অবস্থা পড়ে যাওয়ায় টাকাপয়সা তেমন আর ছিল না, বিয়েও হয়েছিল সাধারণ গৃহস্থ ঘরে। কিন্তু ছেলের নামে নবাবি ভাবটা রাখতে চেয়েছিলেন। তাই শখ করে নাম রেখেছিলেন সাহেবজাদা ইরফান আলি খান। পরে ইরফান বাকি সব ছেঁটে ফেলে শুধুমাত্র ইরফান নামটা নিয়েই রইলেন, তাতে শুধু একটা "আর" অক্ষর বেশি লাগালেন। তাঁর কথায়, আমি চাই না আমার ধর্ম, আমার বংশ পরিচয়, পদবী বা অন্য কিছু দিয়ে আমি পরিচিত হই। আমার পরিচয় আমি নিজে এবং আমি চাই আমার পরিচয় হোক আমার অভিনয় দিয়ে। অভিনয় করা শিখেছিলেন দেশের সবচেয়ে নামকরা ড্রামা স্কুলে। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন সুতপা শিকদার, পরে তাঁকেই বিয়ে করেন ইরফান। তাঁদের দুটি পুত্র সন্তান, বাবিল আর অর্য়ন। ইরফান চাননি, তবু তাঁর নামের পিছনে খান পদবীটা পুরোপুরি বাদ দিতে পারেননি। যদিও বলিউডের বাকি তিন খানের সঙ্গে তাঁর নাম কখনো উচ্চারিত হয়নি। এর কারণ ইরফান নিজেই বলেছেন, "আমি কোনও দিনই বাণিজ্যিক সিনেমা সফলভাবে করতে পারবো না। ওটা আমার জন্য নয়, আমাকে দিয়ে হবে না।" মাত্র তিনদিন আগে তাঁর মা সাঈদা বেগম রাজস্থানে মারা গেলেন, বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ইরফান মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যেতে পারেননি লকডাউনের জন্য। বাড়িতে বসে ভিডিওতে শেষকৃত্যের ছবি দেখেছেন। তখনও তিনি জানতেন না যে তার তিনদিন পরেই তাঁকেও ঐভাবে একা একাই চলে যেতে হবে, কারণ লকডাউনের জন্য সারা মুম্বাই এখন নগরবন্দি। গতকাল কোলনে একটি সংক্রমণ নিয়ে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন, আজ তাঁর মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেল।

ইরফানের বেশ কিছু ছবির সহ-অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন আজ তাঁর শোক বার্তায় বলেছেন, এমন একজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করা রীতিমতো ভাগ্যের বিষয়। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম উনি কি স্বাভাবিক ভাবে, কি সাবলীল ভঙ্গিতে অভিনয় করছেন! মনে হত যেন কথাই বলছেন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছেন, ইরফান ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী অভিনেতা। তাঁকে এভাবে অকালে হারানোয় ভারতের খুবই ক্ষতি হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই সুরে বলেছেন, আজ বিশ্ব সিনেমা জগৎ একজন অভূতপূর্ব অভিনেতাকে হারালো।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:52 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG