অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম নক্ষত্র চুনী গোস্বামী মারা গেছেন


ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম নক্ষত্র চুনী গোস্বামী আজ বিকেল পাঁচটা নাগাদ কলকাতায় একটি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। কলকাতার যোধপুর পার্কের ফ্ল্যাটে অসুস্থ অবস্থায় কিছুদিন ছিলেন চুনিবাবু। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পরপর দুবার তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে বিকেল পাঁচটা নাগাদ আরো একবার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং চিকিৎসকদের সব চেষ্টা বিফল করে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে ভারতীয় ফুটবল দলের এককালের সোনাজয়ী অধিনায়ক বিদায় নেন।

আসল নাম সুবিমল গোস্বামী, কিন্তু চুনী গোস্বামী নামেই সারা বিশ্ব চেনে। জন্ম হয়েছিল অধুনা বাংলাদেশে। কিন্তু ১৯৪৮ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে মোহনবাগানের জুনিয়ার দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেই থেকে তিনি মোহনবাগানের খেলোয়াড় হয়েই রয়ে গেলেন। আমরা জানি, মোহনবাগানের পরিচয় ঘটিদের ক্লাব অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ক্লাব হিসেবে, আর বাঙালদের ক্লাব ইস্টবেঙ্গল। বরাবরের রেষারেষি এই দুই ক্লাবের মধ্যে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার যে, নিজে বাঙাল হয়ে তিনি ঘটিদের ক্লাব মোহনবাগানের হয়ে খেলে গিয়েছেন এবং ২শোটিরও বেশি গোল করেছেন মোহনবাগানের হয়ে। এর মধ্যে অনেক বার ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন চুনী গোস্বামী, ১৩টি গোল করেছেন। তাঁর অধীনেই ১৯৬২ সালের জাকার্তা এশিয়াডে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে সোনা জিতেছিল পিকে ব্যানার্জি আর চুনী গোস্বামীর ভারত। মাত্র কয়েক দিন আগে বিদায় নিলেন পিকে, আর আজ বিদায় নিলেন তাঁর বন্ধু এবং সহখেলোয়াড় চুনী গোস্বামী।

ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন ১৯৬৮ সালে। তারপর ক্রিকেট খেলা শুরু করেন, সেখানেও ৪৬টি রঞ্জি ম্যাচ খেলেছেন, একটি শতরানও করেছেন। ব্যাটের সঙ্গে সঙ্গে বলও করতে পারতেন এই অল রাউন্ডার। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর টেনিস খেলা শুরু করেন। কিন্তু সবকিছুর থেকে সবচেয়ে বড় হয়ে থাকবে তাঁর আসল পরিচয় ফুটবলার হিসেবে। ফুটবল প্রতিভার জন্য অর্জুন পুরস্কার পেয়েছেন, পদ্মশ্রী উপাধি পেয়েছেন, মোহনবাগান রত্ন পুরস্কার পেয়েছেন। এত সম্মান এত কৃতিত্ব এত বন্ধু, সবাইকে ছেড়ে আর এক বন্ধু পিকের ঠিক পরপরই তিনি বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:17 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG