অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কক্সবাজারকে লকডাউন করা হয়েছে


বাংলাদেশে কক্সবাজার আগে থেকেই কার্যত লকডাউন ছিল । গত মাসেই পর্যটক শূণ্য করা হয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এরপর হোটেল ছেড়ে কক্সবাজার ত্যাগ করেন পর্যটকরা। জরুরী সেবা ছাড়া স্বাভাবিক যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত ছিল। পুলিশের পাশাপাশি সেনা বাহিনী এবং নৌ বাহিনীর টহল সড়কে নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। বুধবার বিকালে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসে পুরোপুরি লক ডাউনের। এই ঘোষণার পর কক্সবাজারে কেউ ঢুকতে পারবেন না। কক্সবাজার থেকে কেউ বেরও হতে পারবেন না। এমনকি জেলার এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়ও যাওয়া যাবে না। তবে জরুরী সেবাগুলো চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কক্সবাজারের প্রবেশপথগুলো। জেলার ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরকেও লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। আগে থেকেই রোহিঙ্গা শিবিরে লোকসমাগম, সভা-সমাবেশ, বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সীমিত করা হয়েছিল শিবিরে কর্মরত দেশিবিদেশি সংস্থা ও এনজিও কার্যক্রম

এখন তা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একটি শিবিরের রোহিঙ্গা ইচ্ছা করলে অন্য শিবিরে যাতায়াত করতে পারবে না। যখন-তখন রোহিঙ্গারা হাটবাজারে যেতে পারবে না। তবে রোহিঙ্গাদের ঘরে থাকতে এবং নিরাপদে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নজরদারি করছে। করোনার ঝুঁকি থেকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারে একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলেও তিনি এখন সুস্থ্য হয়ে গেছে। এখন জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ নেইমঙ্গলবার পর্যন্ত কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজের ল্যাবে অর্ধশত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে কারও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। এপ্রিলের শুরু থেকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

করোনাআক্রান্ত রোগীদের জন্য রামু ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০ শয্যার পৃথক দুটি আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হলেও সেখানে কেউ ভর্তি নেই।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলে আশংকা করা হচ্ছে। তাই ক্যাম্পে আইসোলেশন বেড এক হাজারে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ইন্টারসেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ আইএসসিজি’র মুখপাত্র সৈকত বিশ্বাস।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং হাত ধোয়ার সুযোগ খুব কম বলে জানিয়েছে রোহিঙ্গারা। তরুণ রোহিঙ্গা সংগঠক ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানুষ বসবাসের ঘনত্ব এতো বেশি যে, ইচ্ছা করলেই ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ নেই। আর এতোটা পানির সংকট যে ইচ্ছা করলেই হাত ধোয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ছৈয়দ উল্লাহ।

লকডাউনের ফলে সংকটে পড়া মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে খাবার বিতরণ শুরু করেছে প্রশাসন। পুলিশ, নৌ বাহিনী এবং সেনা বাহিনীও খাবার বিতরণ করছেন।

দেরীতে হলেও কক্সবাজারকে লকডাউনের আওতায় আনাকে স্বাগত জানিয়েছেন কক্সবাজারবাসী।

XS
SM
MD
LG