অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দুই মাস সাগরে ভেসে বাংলাদেশে ফিরেছেন ৩৯৬ রোহিঙ্গা


প্রায় দুই মাস সাগরে ভেসে প্রাণ নিয়ে ফিরেছেন ৩৯৬ জন রোহিঙ্গা। একেবারে অনাহারে কেটেছে শেষের দিনগুলো। এসময় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে মৃতদেহগুলো। কেউ কেউ বলছেন মারা গেছেন ২৮ জন। আবার কেউ বলছেন মৃতের সংখ্যা কম হলেও অর্ধশত। বুধবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা দূর্বিসহ এই সমুদ্র যাত্রার বর্ণনা দেন।

রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে বোটে উঠেছিলেন চার শতাধিক রোহিঙ্গা। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাদের। পাচারের জন্য মধ্য সাগরে অপেক্ষায় ছিল বড় ফিশিং বোট। বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ছোট বোটে করে রোহিঙ্গাদের বড় বোটে নিয়ে যান দালালরা। এরপর যাত্রা শুরু হয় মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পৌঁছে যান মালয়েশিয়া। বাধা হয়ে দাঁড়ান মালয়েশিয়ান কোস্ট গার্ড। মাঝিরা বোট ভিড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন অন্তত দুইবার। করোনা ভাইরাসের কারণে মালয়েশিয়ার সীমান্ত পুরোপুরি লকডাউন। তাই প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে পেছনে ফিরে আসতে হয়েছে। খাবার ফুরিয়ে যাওয়ায় বোটে অনেকেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছতে না পারা আর ক্ষুধা নিবারণ করতে না পারায় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেছিলেন অনেকেই। এ নিয়ে দালালদের সাথে রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষও বাঁধে কয়েকবার।

ক্ষুধা, দুর্বলতা এবং সংঘর্ষে অনেকেই মারা যান। অবশেষে বুধবার রাত ৯টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর উপকূলে পৌঁছে রোহিঙ্গা বোঝাই বোটটি। অর্ধ শতাধিক স্থানীয় জনগণ ট্রলার থেকে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করেন। এসময় বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে ট্রলার থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া পাচারকারী এবং স্থানীয় উদ্ধারকারীদের ১৪ দিনের কোয়ারিন্টিনে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঐ প্রত্যক্ষদর্শী। স্থানীয়রা ৩৯৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে ১৫০ জন পুরুষ, ১৮২ জন মহিলা, ৬৪ জন শিশু। তারা সবাই কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন এসব রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর'র কাছে হস্তান্তর করেন।

ইউএনএইচসিআর'র মুখপাত্র লুইস ডনোভান জানিয়েছেন, ৩৯৬ জন রোহিঙ্গাকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টিনে রাখা হয়েছে। ১৪ দিনের কোয়ারিন্টিন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের শরণার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানো হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ফেব্রুয়ারীতে ১৩৮ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের পশ্চিমে একটি ট্রলার ডুবে গিয়েছিল। ঐ ঘটনায় ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হয়েছিল ১৬ জনের মৃতদেহ। অর্ধশত রোহিঙ্গা শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ থেকে যায়।

XS
SM
MD
LG