অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে অবৈধ ক্যাসিনোর মূলহোতা সম্রাটের অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্য


বাংলাদেশে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের দশম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের একটি মন্তব্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড তটস্থ। সাংবাদিকরা হন্য হয়ে ছুটছেন র‌্যাব হেডকোর্য়াটারে, গোয়েন্দা অফিসে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এক ধরনের অস্থিরতা। মন্তব্যটা ছিলো ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের প্রেসিডেন্ট ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে নিয়ে। এক সপ্তাহ ধরে নানা গুঞ্জন সম্রাট কোথায়? তিনি কি বিদেশে চলে গেছেন? নাকি আইনশংখলা বাহিনীর হাতে বন্দি? ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে খ্যাত এই যুবলীগ নেতা এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকায় অবৈধ ক্যাসিনোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। ক্যাসিনো চালানোর অপরাধে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা সবাই এক বাক্যে বলেছেন, সম্রাটই হচ্ছেন এর মূল নিয়ন্ত্রক। এই পটভূমিতেই ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে সম্রাটকে নিয়ে।

শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করেন, তারা সম্রাটের অবস্থান জানতে চান। ষ্পষ্ট করে কিছু না বলে, অনেকটা রহস্যের সুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য 'অপেক্ষা করুন, যা ঘটে দেখবেন'। এরপর থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে সম্রাট হয়তো র‌্যাবের হাতেই রয়েছেন। আগেই অবশ্য সম্রাট যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য বিমানবন্দরগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। স্থলপথেও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক তার বেশকিছু একাউন্ট জব্দ করেছে।

নানা সূত্রে জানা যাচ্ছে ৪০ জনের একটি তালিকা নিয়ে অভিযানটি শুরু হয়েছে। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সম্রাটের নাম। এক নম্বরে আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার। তার অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ বলেছেন, এটাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান বলা যায় না, যদি বলতেই হয়, সেটা হচ্ছে ক্যাসিনো কেন্দ্রিক কিছু তৎপরতা। শনিবার সন্ধ্যায় এই প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, বড় বড় মেগা প্রকল্পে যেভাবে দুর্নীতি হচ্ছে তার তো কোন এ্যাকশন দেখছি না।

ওদিকে, সরকারকে পদত্যাগ করে অবিলম্বে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে দুর্নীতি, লুটপাট তদন্তে একটি জাতীয় কমিশন গঠনেরও দাবি জানিয়েছে ২০ দলীয় এই জোট। বিবৃতিতে বলা হয়, ধ্বংসপ্রাপ্ত শাসন-প্রশাসন ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, সাংবিধানিক গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পুনর্বহাল ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই দাবি সরকারের মেনে নেয়া উচিত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের বিবৃতিতে তিনটি দাবি তুলে ধরেছে। বর্তমান অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার ঘোষণা। খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি, বর্তমান সরকারের গুম-খুনসহ রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি এবং দুর্নীতি লুটপাট তদন্তে গ্রহণযোগ্য জাতীয় কমিশন গঠন। ড. রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিটিতে বলা হয়, এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্র বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়বে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:27 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG