অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শুভ নববর্ষ ১৪২৪। প্রতি বছরের মত এবারও সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রমনা বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ উৎসব। এ বছর ছায়ানটের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- আনন্দ, আত্মপরিচয়ের সন্ধান ও মানবতা। ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানট অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আসছে। এ বছর ছিল ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন।

দিনটি উপলক্ষে রমনা বটমূল এলাকা ও এর আশেপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছিল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করেন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ তিনি বলেন, সবাই যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ১লা বৈশাখ উদযাপন করতে পারে।

পহেলা বৈশাখকে উদযাপন করার জন্য সব ধর্মবর্ণের মানুষ একত্রিত হয়েছিল রমনা বটমূল থেকে শুরু করে পুরো ঢাকা শহর; তথা সারা বাংলাদেশে। ছোট বড় সবাই বিভিন্ন রঙের পোশাক পরে বছরের প্রথম দিনটি ধুমধাম করে উদযাপন করে। হাজার হাজার মানুষের ছিল উপচে পড়া ভীড়। সবাই মনের মাধুরী মিশিয়ে সেজেগুজে যে যার মত করে ঘুরে বেড়িয়েছেন ঢাকা শহর।

দিনটির আকর্ষণ ছিল পান্তা ইলিশ খাওয়া। মহিলারা তাদের বাসা যেমন নতুন ভাবে সাজিয়েছিলেন তেমনি নানা রকম মিষ্টিরও আয়োজনও করেছিলেন।

সকাল ৯ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকির নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে বের হয়ে রূপসী বাংলা হোটেল ঘুরে আবার চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের মানুষ চেতনাকে ধারন করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িকতার অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করবে।

এবারের শোভাযাত্রাটির প্রতিপাদ্য ছিল -'আনন্দলোকে মঙ্গলও আলোকে বিরাজ সত্য সুন্দর'। এই দিনটিতে ছিলনা কোন দুঃখ, কষ্ট, ঈর্ষা। সবাই একাকার হয়ে আনন্দে মেতেছিল দিনটিতে।

চির নতুনের বার্তা নিয়ে এসেছে নতুন বছর নতুন রুপে ১লা বৈশাখ। নতুন আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি মানুষের হৃদয়। ভাল কাটুক নতুন বছর। নাসরিন হুদা বিথী।

XS
SM
MD
LG