অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাখাইন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজারি কমিশন-এর সুপারিশকে পরিপূর্ণভাবে সমর্থন জানিয়েছে


সোমবার লুক্সেমবুর্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপরে যে সীমাহীন, অমানবিক নির্যাতন-অত্যাচার করা হচ্ছে-তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা অবিলম্বে বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর দেশগুলো মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের আমন্ত্রণ জানানো থেকে বিরত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মিয়ানমারের বিদ্যমান সকল সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ নিপীড়ন-নির্যাতনের কাজে ব্যবহ্নত হতে পারে এমন অস্ত্র ও এ জাতীয় সরঞ্জামাদি বিক্রয় চুক্তি পুর্নমূল্যায়ন করার ঘোষণা দেয়া হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। বলা হয়, যদি এরপরেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না হয় তাহলে এ ব্যাপারে আরও কঠোর ব্যবস্থা আরোপ করা হবে। ইইউ রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমে প্রত্যাবাসনে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাথে অবিলম্বে সমঝোতার লক্ষ্যে সংলাপ শুরুর তাগিদ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানা বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যে ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে- তার প্রশংসা করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাখাইন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজারি কমিশন-এর সুপারিশকে পরিপূর্ণভাবে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাখাইন রাজ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য স্পর্শকাতর নাগরিকত্ব আইনসহ অন্যান্য সুপারিশ দ্রুত এবং সামগ্রিকভাবে বাস্তবায়নে যতো সাহায্য সহায়তা প্রয়োজন তার সবটুকুই ইউরোপীয় ইউনিয়ন করবে। ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন, এবং দোষীদের শাস্তি বিধানে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের প্রত্যয়কে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। ইইউ বলেছে, শিশুসহ সামগ্রিকভাবে যে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে এবং এর যে তথ্য প্রমানাদি পাওয়া গেছে-তার পরিপূর্ণ তদন্ত প্রয়োজন। আর এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল যাতে রাখাইন এলাকায় যেতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে, বিশ্বব্যাংক মিয়ানমারকে সদ্য অনুমোদন করা ২০ কোটি ডলার উন্নয়ন ঋণ সহায়তা স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাংক এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা এবং জোর করে তাদের নিজ দেশ থেকে বিতারণের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
বর্তমান ঢাকা সফরররত মালয়শীয় উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদী সোমবার কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। মালয়শীয় উপপ্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে তার দেশসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো মিয়ানমারের উপরে চাপ সৃষ্টি করবেন বলে জানিয়েছেন। মালয়েশিয়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করে দেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
রোববার রাত এবং সোমবার সারাদিন বাংলাদেশের উখিয়া সীমান্তসহ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে দলে হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে বলে মানবিক সহায়তাকারী কর্মীরা বলছেন। তাদের ভাষ্য মোতাবেক, হঠাৎ করে এমন বিশাল মানব-ঢল নজীরবিহীন। এখনো হাজার রোহিঙ্গা নোম্যান্স-ল্যান্ডে অনুপ্রবেশের অপেক্ষা রয়েছেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নতুন করে আবার ব্যাপক মাত্রায় অত্যাচার নির্যাতন শুরু করায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করছেন। আন্তর্জাতিক নজরদারী সংস্থাগুলো বলছে, কৃত্রিম খাদ্য সংকট সৃষ্টিও দেশত্যাগের অন্যতম কারণ।
এদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় টেকনাফের শাহপুরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিতে এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে-যাদের মধ্যে ৬ জন মহিলা ও ৪টি শিশু রয়েছে। রাখাইনের বুথিডং থেকে ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশী যাত্রী নিয়ে যাত্রা করেছিল। স্থানীয়রা বলছেন, কমপক্ষে ৭০ জন নৌকাটিতে ছিলেন এবং অনেকে এখনো নিখোজ রয়েছেন।

XS
SM
MD
LG