অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, চীনের প্রস্তাবে সায় নেই মিয়ানমারের


বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি দলকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সফর করাতে যে প্রস্তাব চীন দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পূর্বে শরণার্থী প্রতিনিধিরা যেন নিজেরাই পরিস্থিতি যাচাই করতে পারেন সে জন্য এই সফরের প্রস্তাব দিয়েছিল চীন। কিন্তু এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি মিয়ানমার।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা রেডিও ফ্রি এশিয়াকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছিলেন। ঐ প্রস্তাব মূলত দিয়েছিলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লী জি মিং। গতমাসে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কক্সবাজারে এক আলাপচারিতায় ও গত সপ্তাহে জাতিসংঘের এক সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সাইডলাইনে মিয়ানমার চীন ও বাংলাদেশী প্রতিনিধিদলের আলোচনায় এ প্রস্তাব উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক ওয়াংকু বলেন, তার সরকার এই প্রস্তাবে কখনোই সায় দেয়নি। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ শরণার্থীদের সিমান্তে ফিরতে দিবে সে জন্যই অপেক্ষা মিয়ানমারের। এরপর সীমান্ত থেকে প্রত্যেক ব্যক্তিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। ওয়াংকু বলেন, আমরা কখনোই এই পরামর্শে রাজি হয়নি। যদিও সংবাদ মাধ্যমে একে অনেকটা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন আসেনি। তিনি এই প্রস্তাবকে এক তরফা বলেও সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেই অটল থাকবো। মূল্যায়নের পর শরণার্থীদের গ্রহণ করবো। আমরা কিছু করতে পারছিনা। কারণ অন্যপক্ষ শরণার্থীদের আসতে দিচ্ছেনা। প্রত্যাবর্তনের জন্য সবধরণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমাদের নেয়া আছে। কিন্তু এটি কার্যকর হবে কেবলই যখন আমরা অন্য পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পাবো। শর্ত কিন্তু আগের মতই।

তবে ঠিক কী কারণে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের পরিস্থিতি যাচাই বাছাই করতে রাখাইনে যেতে দিতে মিয়ানমার রাজি নয় কিম্বা কেন এই প্রস্তাব এক তরফা তা ওয়াংকু ব্যাখা করেননি। এর আগে নিউইয়র্কে বুধবারের বৈঠকের পর মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কো তিন বলেন, তার সরকার আসিয়ান, জাতিসংঘ ও অংশীদার রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন পক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি আরও জানান মিয়ানমার, চীন ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেও সম্মত হয়েছে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:00:53 0:00


XS
SM
MD
LG