অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া ফিরিয়ে দিলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট


নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া ফিরিয়ে দিলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। খসড়ার কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তিনি বলেন, আদালত যেসব সুপারিশ করেছিল খসড়ায় তার উল্টোটা এসেছে। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, খসড়া দেখে মনে হয়Ñ পুরোপুরি ইউটার্ন করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি এক পর্যায়ে বলেন, অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা। অথচ: খসড়া বিধিমালায় তা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাহলে হাইকোর্ট কেন রাখবেন? উঠিয়ে দেন। স্মরণ করা যায় যে, চাকরিবিধির গেজেট নিয়ে কয়েক মাস ধরে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে খসড়াটি হস্তান্তর করেন। খসড়া গ্রহণ না করে প্রধান বিচারপতি মতপার্থক্য নিরসনে বৈঠকে বসার পরামর্শ দেন। বলেন, আমরা চাই সুন্দর একটা আইন হোক। এ জন্যই সবপক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, মাসদার হোসেন মামলায় নির্দেশনা আছেÑ সুপ্রিম কোর্ট যে তারিখ থেকে কার্যকরের পরামর্শ দেবেন সেই তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। অথচ খসড়াটি এসেছে পুরোপুরি উল্টো। ১৬ বছরে যখন হলো না, ১৬ শ’ বছরেও হবে কিনা তা নিয়েই সংশয় রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। ওদিকে প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যশোরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, একজনকে নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত নয়। বিচার বিভাগ অনেক মানুষ নিয়ে গঠিত। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ হারাতে রাজী নয়। সে কারণেই তারা দুই বছর যাবত বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। আরও বেশকিছুদিন এভাবেই রাখবে বলে মনে হয়।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের দ্বিমত হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তা নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

XS
SM
MD
LG