অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যা


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন লোগো

বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা নাগরিক হিসাবে তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কিন্তু ভোট দানের সময় তাদের অন্যের সাহায্য নিতে হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নাসরিন হুদা বিথীর রিপোর্ট।

ভাস্কর ভট্টাচার্য্য

ভাস্কর ভট্টাচার্য সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট এবং চট্টগ্রামের ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্বের ৩০ জন প্রভাবশালী প্রতিবন্ধী নেতার একজন।

ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
ভাস্কর ভট্টাচার্য্য

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা কিভাবে ভোট দেয় ? তাদের কি সুযোগ সুবিধা আছে? নির্বাচন হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যাপার, সবাই তার ব্যক্তিগত পছন্দের লোককে ভোট দেয়।আপনি কিভাবে ভোট দেন যেহেতু এটা একটা কনফিডেনশিয়াল ব্যাপার।

ভাস্কর ভট্টাচার্য্যঃ আসলে এখানে দুটো বিষয় আছে।প্রথমত আমি আমার পছন্দের কাউকে নিয়ে নেই। আমি তাকে বলি সে আমার হয়ে ভোট দেয়। এখানে একটা সমস্যা হচ্ছে আমি যাকেই নিয়ে যাই না কেন আমার ব্যক্তিগত ভোটিং এর নিশ্চয়তাটা থাকেনা।এখানে আরেকটা সমস্যা হয়, আমি যে ভোট দিয়েছি সেই আনন্দটা আমি পাইনা।দ্বিতীয় যে বিষয়টা আছে এই মর্ডান যুগে যখন আমরা ইভিএম দিয়ে ভোট দিচ্ছি, যদি পরিকল্পনা পত্রে একটু চিন্তা করা হতো তাহলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষরা নিজেরাই ভোট দিতে পারত।ইভিএম হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি।

আমি ভোট দেবো আমার সফটওয়ার আমাকে পড়ে শোনাতে পারে কতগুলো মার্কা আছে।আমি কোন মার্কায় ভোট দিবো সেখানে ক্লিক করলে আমার পছন্দের মানুষকে আমি ভোট দিতে পারবো। আমেরিকাতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সবাই ভোট দেয়। আমেরিকান ভিজিবিলিটিতে সুবিধা রয়েছে। আমাদের দেশে চমৎকার একটা আইন আছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন।সে আইনেও আমার স্বতন্ত্রতা আমার স্বাধীনতা ইন্ডিপেন্ডেন্টনেস মবিলিটি ডিগনিটি এগুলো কিন্তু রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করেনা।এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষকে এক্সপার্ট হিসেবে কাউন্ট করে না।ফলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের কি প্রয়োজন তা তারা জানে না।

আমার মতে, এখানে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে আমাদের ডেকে জিজ্ঞেস করতে হবে কিভাবে তোমাদের জন্য আমরা ভোটিং এর ব্যবস্থা করতে পারি. তারা কিন্তু এ ব্যাপারে এক্সপার্ট না। আমরাই এ ব্যাপারে এক্সপার্ট ।ভোট আমার অধিকার সাংবিধানিক অধিকার। এটা আমি আমার মতো করে দিতে চাই।প্রযুক্তির কারণে ডিজিটাল বাংলাদেশ সবকিছুকে সম্ভব করেছে।

তাহলে আমরা ভোট দিতে পারব না কেন। এটা তো কোন সমস্যাই না। এটা একদম সিম্পল ব্যাপার। শুধু আমি কেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষরা এবং নিরক্ষর মানুষ সবাই ভোট দিতে পারবে। মেশিন তার সাথে কথা বলবে, তুমি এইখানে ক্লিক করো তার সামনে কোনটা কোন মার্কা।এটা এই মার্কা, এটা এই পার্টি, তুমি এখানে ক্লিক করবে হ্যাঁ বা না বলতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের টেকনোলজি আছে। নির্বাচন কমিশন চাইলেই এগুলা সম্ভব।বাংলাদেশে কোনো ধরনের উদ্যোগ নাই তাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেনা।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ ব্রেইল পদ্ধতিটা থাকলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা হয়তো নিজের পছন্দমত ভোট দিতে পারতো । ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া যায় কিনা?

ভাস্কর ভট্টাচার্য্যঃ আমি একদম এটার ব্যাপারে পুরোপুরি দ্বিমত পোষন করি। এটা একেবারে সমস্যা তৈরি করবে। ধরেন একটা গ্রামে ব্রেইল জানা লোক আছে দুইজন। তারা যখন ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দিবে তখন দেখা যাবে ব্রেইল পদ্ধতি ভোটটা কোন পার্টি পেয়েছ। তখন সেই চিহ্নিত হয়ে যাবে। এতে করে ওই ব্যক্তির শত্রু সৃষ্টি হবে। তাই এই ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দিলে কঠিন সমস্যা হবে।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আপনারা কি কখনও ভোট প্রয়োগের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করেছেন?

ভাস্কর ভট্টাচার্য্যঃ আমরা অনেক চেষ্টা করেছি।আমাদের দেশে এখনো প্রতিবন্ধী মানুষকে সেভাবে সম্মান করা হয় না।আমরা নির্বাচন কমিশনারের সাথে প্রতিবছরই কথা বলি কিন্তু নির্বাচন কমিশন অনেক সময় আমাদের কথা শোনেন আবার অনেক সময় শোনেন না। এখন পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে আমরা করেছি বলেই হয়েছে। আমাদেরও ক্ষমতার লিমিটেশন আছে। আমরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা অনেক আন্দোলন করেছি।তবে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু কাজ করছে। এখানেও একটা সমস্যা যারা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কথা বলে কিন্তু সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষরাই নাই। প্রতিবন্ধী মানুষদের অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে আমরা আমাদের পক্ষে কথা বলার জন্য যে শক্তি দরকার সে শক্তি আমাদের কম আছে। তারপরও আমরাই কথা বলছি।

নাজমা আরা বেগম পপি

নাজমা আরা বেগম পপি উইমেন ইমপ্যালিং উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি ফর ইমপাওয়ারম্যান্টের জেনারেল সেক্রেটারী। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

নাজমা আরা বেগম পপি
নাজমা আরা বেগম পপি

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাও ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার রাখে এবং তাদের ইচ্ছা করে পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিতে। সেই ক্ষেত্রে পেরে উঠতে পারেনা কারণ অন্যের সহযোগিতা নিতে হয়। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

পপিঃ আপনি যেটা বলছেন সেটা আমাদের রাইট।আমরা আমাদের মতো ভোট দিব সেটা গোপন থাকবে কেউ জানবে না।আমি আমার এ্যসিস্টেন্টকে দিয়ে দিলাম সে তো একজনকে দিয়ে দিল।আমি কিন্তু বুঝতে পালামনা। সে ধরনের ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে নাই।দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আমরা অনেক কাজ করেছি।কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দিবো, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি নাই।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ ভোট দিতে আপনার আপনজন কাউকে সাথে নিয়ে গেলেন। সে আপনার বোন হতে পারে বা ভাই হতে পারে। কিন্তু তারও তো নিজস্ব পছন্দের মানুষ আছে । সেক্ষেত্রে বিষয়টা কেমন হয়?

পপিঃ আমি আমার ফ্যামিলি মেম্বার বা কোন বন্ধু যাকে দিয়েই ভোট দেই না কেন সে তো আরেকজন। একজন তো জেনেই গেল সেটা তো আর গোপন রইল না।এটা হবার কথা না। আমার ভোট আমি যেন ভালভাবে দিতে পারি।সেজন্য রাষ্ট্র সেটার ব্যবস্থা করবে। সেই ব্যবস্থাটা করার জন্যই আমরা অনেক কাজ করছি।ইলেকশন কমিশনের সাথে আমরা মিটিং করেছি কি করা দরকার বলে দিয়েছি।কি ব্যবস্থা করলে আমরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা এবং আরো যারা প্রতিবন্ধী মানুষ আছে যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্রবণ প্রতিবন্ধী তারা যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।ইলেকশন কমিশনের সবাইকে নিয়ে একাধিকবার মিটিং হয়েছে তাদেরকে বলা হয়েছে কিন্তু তারাবলছে হ্যাঁ করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটার কোনো বাস্তবায়ন হয় নাই।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কি বলছেন?

পপিঃ এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে কোন সদুত্তোর পাওয়া যায়নি।দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের ভোটাধিকারের বিষয়ে দেখার জন্য একই কথা বারবার বলা হয়। এগুলো নিয়ে আর কতদিন বলতে হবে সেটা জানি না।২০১৮ সালের শেষের দিকে ইলেকশন হল তখন আমরা নির্বাচন কমিশনের সবাইকে নিয়ে মিটিং করেছি কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছিনা।জাতীয় নির্বাচনে না হোক স্থানীয় নির্বাচনে যেমন উপজেলা নির্বাচন বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটা মডেল হিসেবে দেখানো যেতে পারত।একটা ইউনিয়নকে নিয়ে বা একটা গ্রামের একটা সেন্টারে চালু করা যেতে পারত। কোন এলাকায় কতটা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ আছে সেটা নিয়ে দেখা যেত।আসলে সে জায়গাটায় অনেক ঘাটতি আছে। এখন পর্যন্ত সেটার কোনো বাস্তবায়ন নাই।দেশের প্রত্যেকটা মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে চায়।আমি যখন কোন ভোট কেন্দ্রে যাই তখন অনেকেই আমাকে বলে আমি নিয়ে যাই তখন তো আআমি বলতে পারি না আমি আমার ভাই অথবা বোন কাউকে নিয়ে যাব।এসব বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনের যে সমস্ত কর্মকর্তারা জাড়িত থাকেন তারাও ভালবাবে জানেন না।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যাপারটি এখনও কি অনিশ্চিত?

পপিঃ হ্যাঁ এটা এখনো কোনো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখছি না।এটা নিয়ে কথা বলতে বলতে এখন আর ইচ্ছে করে না। আমাদের আইন আছে।আইনে সুন্দর ভাবে লেখা আছে প্রতিবন্ধী মানুষ নিজে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকবে এগুলো সুন্দরভাবে লেখা আছে। প্রতিবন্ধী জাতিসংঘ সনদ সেখানেও আছে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা। স্বাচ্ছন্দে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষরা ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট দিবে। আমাদের পলিসি বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে যারা কাজ করে তারাও এটার জন্য দেন-দরবার করছে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে বিষয়টা থেমে আছে।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ তাহলে এটা কবে নাগাদ হবে।নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কোন আশানুরূপ কোন তথ্য পাওয়া গেছে?

পপিঃ এরকম কোন আশার আলো আমরা দেখছি না।তারা শুধু আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে বাস্তবতার কিছু চোখে পড়ছে না।এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের উপর এখন নির্ভর করছে। তাদের পলিসিগত কোন বাধা নাই।

বেগম কবিতা খানম

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২৩ জন নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন।আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন ১১ জন। কিন্তু এদের মধ্যে কেউ নারী ছিলেন না।বর্তমান সরকার নারী ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে সব ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে।এরই ধারাবাহিকাতায় বেগম কবিতা খানম কমিশনার হয়েছেন।সাড়ে চার দশক পর প্রথমবারের মতো কমিশনার হিসেবে একজন নারী হলেন ইসি।

বেগম কবিতা খানম
বেগম কবিতা খানম

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ ভোট হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রত্যেক ব্যক্তি তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে এটাই স্বাভাবিক। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তার ভোট কিভাবে প্রয়োগ করে?

নির্বাচন কমিশনারঃ নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে বলা আছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভোটারকে যে সহায়তা করবে তার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।তাকে সঙ্গে নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে আসতে হবে।প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতিক্রমে যে ব্যক্তিকে সে নিয়ে আসবে তার সহায়তায় ভোট দিতে পারবে। যেহেতু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ব্যালট পেপারে সাইন করতে পারেনা অথবা সীল দিতে পারে না। ইদানিং ইভিএম পদ্ধতিতে আমরা ভোট গ্রহণ করছি।ইভিএম পদ্ধতি যদি ব্যবহার করতে না পারে সেক্ষেত্রে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে বলবে যে ব্যক্তি তাকে সহায়তা করতে আসবে সে ওই জায়গাটায় ভোট দিয়ে দিবেতবে ওই ব্যক্তিকে যে সহায়তা করবে সেই ব্যক্তিকে প্রিসাইডিং অফিসার বুঝিয়ে দিবে।আপনি যেহেতু তার পক্ষে ভোট দিচ্ছেন সুতরাং তার পছন্দের প্রার্থীকেই আপনাকে ভোট দিতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাকে ভোট দিয়েছেন সে বিষয়টা গোপন রাখতে হবে।যে ব্যক্তি আসবেন তাকে প্রিজাইডিং অফিসার বুঝিয়ে দিবেন।এই ব্যক্তি কোন প্রার্থী বা প্রার্থীর এজেন্ট বা প্রার্থীর আপন কেউ হওয়া চলবে না।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহায়তাকারী কতটা বিশ্বস্ত হওয়া প্রয়োজন?

নির্বাচন কমিশনারঃ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহায়তাকারীর প্রতি আস্থা থাকতে হবে। সেরকম ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে আসতে হবে।তার পছন্দের ব্যক্তিকে সে ব্যালট পেপারে বা ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে ভোট দিবে।সে ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার কয়েকবার সেই ব্যক্তিকে নিশ্চিত করবে সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পছন্দের ব্যক্তিকেই ভোট দিবে।এটা একটা আস্থার বিষয় এবং গোপনীয় বিষয়। প্রিজাইডিং অফিসার সেটা দেখতে পারবে না যে সহায়তাকারী কাকে ভোট দিচ্ছে। এটুকু আমাদের আস্থায় নিতে হবে যেহেতু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সে আস্থাভাজন। আইনে কিন্তু এভাবেই বলা আছে। আইনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, পৌরসভার আইনে শুধু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তো বটেই এছাড়াও একেবারে ভোট দিতে পারছেনা সেরকম ব্যক্তিকেও সহায়তা দিতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে সহায়তাকারীর বয়স ২১ বছরের উপরে হতে হবে।সে কোন প্রার্থীর এজেন্ট নিকটাত্মীয় হতে পারবে না। আর প্রিজাইডিং অফিসার তাকে নিশ্চিত করবে যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যাকে ভোট দিতে চায় তাকেই সে ভোট দিবে।

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ আপনাদের কি কোনো পরিকল্পনা আছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের?

নির্বাচন কমিশনারঃ অবশ্যই আমরা চাই অন্যের সহায়তা ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যেন ভোট দিতে পারে। সেই পদ্ধতি আমাদের এখানে নাই।এখানে আস্থার ব্যাপারটা থাকে সে যাকে নিয়ে আসবে সে তার পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিবে কিনা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বিভিন্নভাবে শিক্ষিত হচ্ছে সে ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা না।যেহেতু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা এভাবে চেষ্টা করছে যদিও প্রস্তাব আসে নাই ভবিষ্যতে

যদি আইনটাতে কোন বিকল্প কিছু আনা যায় তাহলে অন্যের সহায়তা ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।ব্রেইলের মত এরকম একটা পদ্ধতি আসা উচিত বলে মনে করি এবং আমরা এটা রাখার চেষ্টা করব।

XS
SM
MD
LG