অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মাত্র ৪টি চারা থেকে সবুজের বাগানে এখন কোটি টাকার বনসাই


বনসাই

ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি বাড়তি আগ্রহ ছিল সবুজের। প্রথমে সিলেটে বেড়াতে গিয়ে একটি নার্সারী থেকে বনসাই দেখে মুগ্ধ হন। পরে ঢাকায় ফিরে প্রথমে ৪টি তেতুল গাছের চারা কিনে তার ভবনের ছাদেই শুরু করেন বনসাই চাষ। এখন তার বাগানে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে রয়েছে সর্বোচ্চ ১৩ লক্ষ টাকা মূল্যের বনসাই। শুরুতে নিজের বাসার ছাদে ছোট্ট করে বনসাইয়ের চাষ করলেও এখন দুটি বাড়ীর ছাদ ও দুই বিঘা ভাড়ার জমিতে করেছেন স্বপ্নের বনসাই বাগান। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় তার বনসাই বাগান।

বনসাইয়ের নেশায় আসক্ত হওয়ায় একসময় সবুজকে তার বাবা বাড়ী থেকে বের করে দেয়। কিন্তু তারপরও সে বনসাইকে ছাড়েনি। থেমে না থেকে ধৈর্য্য ধরে দীর্ঘদিন যাবৎ তার স্বপ্নের পথেই তিনি হেঁটেছেন তিনি। সবুজ জানান, তার নিজ হাতে তৈরি লক্ষ লক্ষ বনসাই ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীর উঠোন, বারান্দাসহ ছাদেও রয়েছে কয়েক হাজার বনসাই। তার নিজ হাতে তৈরি অন্তত: ২০ হাজার বনসাইসহ তার বাগানে রয়েছে দুই লক্ষাধিক বিভিন্ন প্রকার গাছের চারা।

বনসাই এর পরিচর্যা করছেন সবুজ।
বনসাই এর পরিচর্যা করছেন সবুজ।

মালয়েশিয়া ও ভারতসহ বহির্বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের বনসাইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি। মালয়েশিয়া ও ভারতের দুটি ভিন্ন ভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যেই বেশকিছু বনসাই রপ্তানী করেছেন তিনি। কাতারের একটি প্রতিষ্ঠানেও তার এ বনসাই রপ্তানীর প্রত্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান সবুজ। তিনি জানান, বৈদেশিক বাজারে বনসাইয়ের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আগ্রহী যুবকরা বনসাই সংগ্রহের পাশাপাশি বেকরত্ব ঘোঁচাতে সবুজের কাছ থেকে নিচ্ছেন বনসাই ও নার্সারী বিষয়ক নানারকম প্রশিক্ষণ।এখন পর্যন্ত তার তত্বাবধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ও নিজের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ হাজার তরুণকে বনসাইয়ের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।তিনি মনে করেন, যখন এসব যুবক পুরোদস্তর বনাসাই তৈরীতে পারদর্শী হবেন, তখন বিদেশে বনসাইয়ের চাহিদা মেটানো আমাদের জন্য বেশ সহজ হবে।

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই দেখতে আসেন তার এই বনসাই বাগান। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন অনেক দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম হয় সবুজের বনাই বাগানে। সে জানায়, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে অসংখ্য মানুষ আসে এবং তারা বনসাই সহ বিভিন্ন শাক-সব্জি ও ফল-মূলের বীজ ও চারা তার কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। বনসাইয়ের পাশাপাশি বিশেষ করে মাল্টা,কমলা, আম ও ড্রাগনসহ বিভিন্ন গাছের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী আমবাগপশ্চিমপাড়া এলাকার বনসাই বাগান।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী আমবাগপশ্চিমপাড়া এলাকার বনসাই বাগান।

এক সময় বনসাই বাগানের যত্নে আর্থিক সংস্থান করতে সবুজের যথেষ্ট বেগ পেতে হলেও এখন তিনি তার বাগান থেকে প্রতি মাসে আয় করছেন কয়েক লক্ষ টাকা। সবুজ জানান, বাংলাদেশে বনসাইয়ের মার্কেট সৃষ্টি ও এর প্রতি আগ্রহী করতে তার নিজ হাতে তৈরি হাজার হাজার বনসাই ‍বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে তিনি বিতরণ করেছেন।

তার সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে নিয়েছেন সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদ।

সবুজ মনে করেন, দেশের তরুণদের হাতে বনসাই শিল্পও একদিন অনেক দূরে এগিয়ে যাবে। তবে, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পোশাক শিল্পের মত বনসাই শিল্পের মাধ্যমেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে মোটা অংকের বৈদেশিক মূদ্রা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন এই বনসাই শিল্পি কে.এম. সবুজ।

XS
SM
MD
LG