অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সচেতন হলেই যক্ষ্মা প্রতিরোধ সম্ভব।


সারা বিশ্বে যক্ষ্মা রোগের বিস্তার ও সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়। ‘ঐক্যবদ্ধ হলে সবে, যক্ষ্মামুক্ত দেশ হবে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশ সম্মিলিতভাবে যক্ষ্মা নির্মূলের প্রত্যয় নিয়ে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করেছে।

আইসিডিডিআরবি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও টিবি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান ডা: সায়েরা বানুর সঙ্গে কথা হলো বাংলাদেশের যক্ষ্মা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার মধ্যে দেড় লাখের বেশি রোগী এখনও সনাক্ত করতে পারছি না। অথবা জাতীয় যক্ষ্মা কার্যক্রমের অধীনে আমরা আনতে পারছি না। ধারণা করা হয়, প্রতি বছর এদেশে ৮০ হাজারের বেশি রোগী যক্ষ্মায় মারা যাচ্ছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১৫ সালে দুই লাখ ৬ হাজার ৯১৯ জন যক্ষ্মারোগী সনাক্ত হয়েছে। শিশু যক্ষ্মারোগী সনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ১০৩ জন। এছাড়া ২০১৪ সালে এনটিপির মাধ্যমে কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মারোগীর চিকিৎসার সাফল্যের হার ছিল ৯৪ শতাংশ। এসবই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিতভাবে যক্ষ্মা নির্মূলে কাজ করার সাফল্য।

এ প্রসঙ্গে ডা: সায়েরা বানু বলেন, ২০০১ সাল থেকে সনাক্ত হওয়া যক্ষ্ম রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনতে পেরেছি এবং বিনা পয়সায় ভাল ঔষধ দিতে পারি। স্বাস্থ্যকর্মীদের সরাসরি সুপারভিশনে এই ঔষধ খাওয়ানো হয়। এবং এক্ষেত্রে আমাদের শতভাগ কভারেজ রয়েছে।

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, একটি সমস্যা হচ্ছে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা (মাল্টি ড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট টিবি-এমডিআর টিবি) যা প্রচলিত ওষুধে কাজ করে না এবং এটিও আমরা ৭০ শতাংশের বেশি সনাক্ত করতে পারছি না। ফলে যক্ষ্মার জীবাণু একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলখানা, বস্তিসহ বিভিন্ন ঝুকিঁপূর্ণ জায়গায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী পৌছুঁতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কিছু হার্ড টু রিচ এরিয়া আছে যেখানে পৌছুতে পারলেও যেটা দরকার করতে পারছি না। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ, প্রাইভেট সেক্টরের রোগীগুলো ঠিকমতো সনাক্ত হচ্ছে না। আবার সনাক্ত রোগীদেরও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর আওতায় আনতে পারছি না।

বাংলাদেশে এখনও অর্ধেক যক্ষ্মা রোগী সনাক্ত করা যাচ্ছে না। আর যক্ষ্মা সংক্রামক রোগ হওয়ায় আমরা সবাই ঝুকিঁতে রয়েছি। তবে একটু সচেতন হলেই যক্ষা প্রতিরোধ সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, যক্ষার প্রধান লক্ষণ কাশি। তাই তিন সপ্তাহের বেশি সময় কারো কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে অথবা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিবি’র জন্য ডট সেন্টারে গিয়ে কফ পরীক্ষা করাতে হবে। আসুন সচেতন হই, যক্ষ্মা প্রতিরোধ করি।

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

please wait
Embed

No media source currently available

0:00 0:03:19 0:00

XS
SM
MD
LG