অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছরের মতো আজ কলাম্বাস দিবস উদযাপিত হচ্ছে: আজকের সম্পাদকীয়


চোদ্দ শ’ বিরানব্বুই সালের অক্টোবর মাসে স্পেইন থেকে তিনটি সমুদ্রপোত এসে ভিড়েছিলো ক্রীস্টোফার কলাম্বাসের নেতৃত্বে আজকে যেটা কিনা বাহামা দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত তারই সৈকতে। ঐ সেদিনের স্মরণেই প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হয়ে আসছে কলাম্বাস দিবস এবং ওতে করেই বিশ্বজোড়া বিপুল পরিমান খাদ্য সামগ্রী- পশু- উদ্ভিদ, মানুষজন এবং রোগ বালাইয়েরও বিনিময় তৎপরতার সূচনা হয়ে গিয়েছিলো আজকে যেটাকে কিনা কলাম্বীয় বিনিময় নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে তার। আর সে কারণেই, ইতিহাসবীদদের অধিকাংশই চোদ্দ শ’ বিরানব্বুই সালটাকে আধুনিক বিশ্ব ইতিহাসের সবচাইতে তাৎপর্যপুর্ণ বছর রুপে গন্য করে থাকেন।

চোদ্দ শ’ বিরানব্বুই সালের পর থেকে নিয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা চার গুনেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে- দ্বিগুন হয়েছে ১৬ শ’ পঞ্চাশ ও আঠারো শ’ পঞ্চাশ মধ্যবর্তী কালে। এই বিপুল বৃদ্ধির পেছনে কারণ রয়েছে বেশ কয়েকটিই তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণটি, স্পষ্টত:ই উন্নত মাত্রার খাদ্য সামগ্রীর সরবরাহ। এ্যামেরিকার আদি খাদ্যশষ্য যেমন ভুট্রা,ম্যানিয়ক,আলু,চীনাবাদাম আনারস মরিচ,কোকো বীন এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

স্বল্প বিত্তের মধ্যাঞ্চলবর্তী ও উত্তরাঞ্চলিয় য়ুরোপের খাদ্য চাহিদায় আলু বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠলো। ভুট্রা ও মিস্টি আলুর মতো দেখতে শিকড় জাতিয় খাদ্য মানিয়োক আফ্রিকী মহাদেশে পরিচিতি লাভ করলো ষোড়স শতকে। এবং আফ্রিকার মূল খাদ্য তালিকায় তা জাঁকিয়ে বসে গেলো।

নতুন দুনিয়ার এসব খাদ্যসামগ্রী বিশেষ করে আলু, যব – চীনা বাদামের চাষ চীনদেশে আরম্ভ হ’লো । পনেরো শ’ সালে এবং ষোলো শ’ পঞ্চাশ দশকে বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বাড়লো বিস্তর। অস্টাদশ শতক নাগাদ চীনের জনসংখ্যা দাঁড়ালো গিয়ে বিশ্ব জনসংখ্যার এক তৃতিয়াংশে।

কলাম্বিয় বিনিময় একটা বৈশ্বিক বিনিময়- বিশ্বের কোনায় কোনায় নতুন নতুন খাদ্য সম্ভার পৌঁছিয়েছে তা । চোদ্দ শ’ বিরানব্বুই সালের আগে ফ্লরিডায় কোনো কমলা লেবু ছিলো না, ইকুয়েডরে কলা ছিলো না – লাল মরিচ পাপরিকা দেখা যেতো না হাঙ্গেরীতে। ঐ বিনিময় ইটালীতে নিয়ে গেলো টমাটো,কফি গেলো কোলোম্বিয়া আর ইন্দোনেশিয়ায়- হাওয়াইয়ে গেলো আনারস – আফ্রিকা পেলো রবার বৃক্ষ, থাইল্যান্ড-চীন- ভারত পেলো কাঁচা মরিচ আর সূইটযারল্যান্ড পেলো চকোলেট।

ছোট্র তিন সমুদ্র পোত বাহামা দ্বীপপুঞ্জের একটির তটদেশে ভেড়াকে কেন্দ্র করে এ্যাত্তো সব বৈশ্বিক বিনিময় কর্ম তৎপরতা ইতিহাসের মোড় বদলিয়ে দিলো নজিরবিহিন মাত্রায়- বহূ শতকের জন্যে ইতিহাসের ধারায় মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টিয়ে দিলো তা– শুধুই যে নতুন একটা মহাদেশের আবিস্কার তাই নয়- পৃথিবী গ্রহের গোলার্ধের মধ্যে নিয়মিত সংযোগ রচনা হলো- বানিজ্য নব জীবনে উদ্দীপিত হ’লো, ধ্যান ধারণা ভাবনা চিন্তা জীবন দর্শনের আদান প্রদান শুরু হ’লো—সংযোগ গড়ে উঠলো- বিভিন্ন সংষ্কৃতি পরস্পর কাছাকাছি ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এসে জড়ো হ’লো।

চোদ্দ শ’ বিরানব্বুই সালে এ পৃথিবী গ্রহ বৈশ্বিক একটা সমাজ গোত্র রুপে এককাট্রা হ’লো- সকল মানব জাতির জন্যে যা কিনা কল্যানীর রুপ পরিগ্রহ করলো।

XS
SM
MD
LG