অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আগামী জুন-জুলাইয়ের আগে ভ্যাকসিন রফতানির বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই-সিরাম ইনস্টিটিউট


অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা করোনা ভ্যাকসিনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আগামী জুন-জুলাইয়ের আগে ভ্যাকসিন রফতানির বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনেওয়ালা ভারতীয় প্রভাবশালী এনডিটিভি-কে বুধবার অপরাহ্নে বলেন, রফতানি শুরু হলেও তা হবে খুবই সীমিত মাত্রায়।
সিরামের প্রধান নির্বাহী বলেন, আপাতত ভ্যাকসিন রফতানির বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাস দু’য়েকের মতো আমাদের ভ্যাকসিন রফতানির দিকে নজর দেয়া ঠিক হবে না। জুন-জুলাই থেকে সীমিত আকারে আবার কিছু ভ্যাকসিন রফতানি শুরু করতে পারব কিনা, তা দেখছি। তবে আমরা দেশের চাহিদাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ওপরই বাংলাদেশ নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মজুদ রয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ডোজ। এই অবস্থায় ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম ১০ দিনের মতো চলতে পারে।


বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বৃহস্পতিবার আখাউড়া স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের কাছে তার দেশের করোনার কঠিন পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, দেখা যাক, দুই দেশের জনগণের মঙ্গলের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা চালিয়ে যেতে আমরা কতটা চেষ্টা করতে পারি। তবে তিনি বাংলাদেশকে করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে, ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ এবার চীনমুখী হয়ে এখন চীনের সহায়তা চাইছে। চীন দ্রুততার সাথে কিছু ভ্যাকসিন উপহার হিসেবে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে চীনের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত অবিলম্বে সম্মতিপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। বাংলাদেশ এতে সম্মত হয়েছে। চীনের সিনোফার্ম বাংলাদেশকে ৬০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন বিক্রির একটি প্রস্তাবও দিয়েছে। বাংলাদেশ এই প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশ যতটা চায়, চীন ততো ভ্যাকসিন দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উপহার হিসেবে চীন থেকে ৬ লাখ ডোজ টিকা জরুরি ভিত্তিতে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৯৮ জনের মৃত্যু এবং ৪০১৪জন আক্রান্ত হয়েছেন।

XS
SM
MD
LG