অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হলোকস্ট জাদুঘরে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী


Greta Displaced

গতকাল ওয়াশিংটন ডিসির হলকসট মিউসিয়ামে ভয়েস অফ আমেরিকার কনট্রিবিউটার গ্রেটা ভ্যান সাসটেরানের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মিত প্রামান্ন চিত্র ‘ডিসপ্লেসড’ এর অংশ বিশেষ প্রদর্শন করা হয়। আরও প্রদর্শিত হয় অভিজ্ঞ চিত্রগ্রাহক গ্রেগ কন্সট্যানটিন এর তোলা বেশ কিছু ছবি।প্রদর্শনী চলাকালে এক আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের ওপর তাদের অভিবেক্তি প্রকাশ করে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এই ধরনের বর্বরতা মেনে নেয়া যায় না। পুরো একটি জাতিকে কিভাবে সম্ভব সমূলে নিশ্চিহ করে দেয়া। কেনই বা করা হবে? কারণ তারা ঐ দেশে সংখ্যালঘু বলে? মুসলিম বলে?

মিয়াম্মার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ দেখে এসেছেন ফটো সাংবাদিক গ্রেগ কন্সট্যানটিন। তিনি বর্ণনা দিচ্ছিলেন কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর ছবি তোলার কাজ শুরু করেন ২০০৬ সাল থেকে এবং তখন থেকেই এই নির্যাতন নিপীড়নের নথি তৈরি করতে থাকেন।

তিনি বলছিলেন...।

রোহিঙ্গাদের ওপর আমি এই নথি তৈরি করতে থাকি কারণ এই বর্বর হামলার খবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুগ যুগ ধরে অজানা ছিল। মিয়াম্মার সরকার যেই ধারবাহিক জাতিগত নিধন নির্বিচারে নির্দ্বিধায় চালিয়ে এসেছে তা বিশ্বের মানুষের জানা প্রয়োজন।

কুতুপালং ক্যাম্পে তিনি দেখেছেন প্রতিদিন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষেরা বাচ্চা বৃদ্ধ চিকিৎসার অভাবে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। সেখানে কবরস্থানের ছবি তুলেছেন এবং বর্ণনা দিয়েছেন, এক দিনে তিনি ১৬টি নতুন কবর দেখেছেন।

ব্রিটেন ভিত্তিক রোহিঙ্গা সংস্থা বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন এর প্রেসিডেন্ট টুন খিন বলেন, মিয়াম্মার সরকারের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ১৬ বছর বয়সে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।

তিনি বলেন...

আমাকে পড়াশুনা করতে বাধা দিয়েছে। আমার চলাফেরার ওপর তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আমরা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতে পারতাম না। আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুকে বিয়ে করতে দেইনি। তারা সন্তান গ্রহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করে। এই নির্যাতন নিপীড়ন তোঁ আজ থেকে নয় কয়েক দশক ধরে চলে আসছে তবে খুশী হয়েছি দেরিতে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের দুর্বিষহ ভয়ঙ্কর জীবন কাহিনীর কথা জানতে পেরেছে। এবং আশা করছি সবাই মিলে একটি সম্প্রদায়কে নিশ্চিনহ হওয়া থেকে বাচাবে।

ভয়েস অফ আমেরিকার কনট্রিবিউটার গ্রেটা ভ্যান সাসটেরান তাঁর বক্তব্বে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এটা আসলেই খুব আশ্চর্যের বিষয় জে এত নৃশংসতার খবর কেন অন্য সংবাদ মাধ্যম বিশ্ববাসীকে জানাচ্ছেনা।তিনি বলেন আমরা নিজেরা সেখানে না গেলে হয়তো উপলব্ধি করতে পারতাম না ভয়াবহতার মাত্রাটা। নিজের ভাই বোন বাবা মা স্বামী স্ত্রী, পরিবারের এতগুল মানুষকে নির্মম ভাবে খুন হতে দেখেছে।নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য পেছন ফিরে তাকানর সুযোগ পাইনি এই মানুষগুলো। কুতুপালং ক্যাম্পে এসে লড়তে হচ্ছে আরেক যুদ্ধ, মানুষের মতো বেঁচে থাকার যুদ্ধ।

গ্রেটা আরও বলেন...

আমি আমাদের ভয়েস অফ আমেরিকার পরিচালক আমেন্দা বেনেট কে ধন্যবাদ দিতে চাই তিনি সশরীরে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে গেছেন।কিন্তু আশ্চর্য হচ্ছি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম কেন এই বিষয় জেনেও চুপ রয়েছে, কেন তারা সংবাদ করছেনা এটা নিয়ে।নিজের চোখে না দেখলে অনুভব করা সম্ভব নয় সেই রাখাইন রাজ্যে কি চলেছে।

সেই অনুষ্ঠানে আলোচনা হয় নারীদের পরিস্থিত নিয়ে। যারা ধর্ষিত হয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ, যেই বাচ্চাগুলো জন্ম নিচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ। আলোচকরা সবাই বাংলাদেশের কক্সবাজারএর ক্যাম্প ঘুরে এসেছেন। কেউ কেউ রোহিঙ্গাদের মানসিক বিপর্যয় দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের সারিতে ফাকা একটি চেয়ার ও ছিলোনা। সবাই জানতে চেয়েছেন তারা কি করতে পারেন, কি করা উচিৎ এ পর্যায়ে? ।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থা হেরিটেজ ফাউনডেশানের নীতি বিশ্লেষক অলিভিয়া ইনোস তাঁর বক্তব্বে বলেন...

নীতি বিশ্লেষক অলিভিয়া ইনোস বলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থেই এই নির্মম ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা প্রয়োজন।এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র জেভাবে মানবাধিকার সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে, অন্যান্য মানবাধিকার বিষয়গুলো জেভাবে তারা পরিচালনা করেছে এতে করে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার নিয়ে অদোউ বিচলতি কিনা।তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সহায়তা দিচ্ছে এবং এটিই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মক্ষম সময় মানবাধিকার সংস্থাগুল কে উপলব্ধি করানো জে তারা নিপীড়ন প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।অলিভিয়া বলেন, এশিয়া তে সবার জন্য মানবাধিকার উন্নীত করতে আমরা কাজ করছি।

প্রশনোত্তর পর্বে দর্শকের সারি থেকে প্রশ্ন ওঠে কিভাবে মিয়াম্মার সরকারকে প্রতিহত করা সম্ভব।বলা হয় মিয়াম্মারে মূল্যবান রত্নের কদর রয়েছে বিশ্বজুড়ে এবং এর ববসায়িক সুফলতার কারণে অস্ত্র কেনার ব্যাপারে তাদের কোনও অর্থের কোনও ঘাটতি হয়না। ছোট পদক্ষেপ হিসেবে যদি এই রত্নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া যেতে পারে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:06:50 0:00

XS
SM
MD
LG