অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মোবাইল ফোন, ই-মেল, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগেও পোস্টকার্ডের ব্যবহার বাড়ছে


মোবাইল ফোন, ই-মেল, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগেও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পোস্টকার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে চিঠির সংখ্যাও। কলকাতায় মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান দিয়েই এই তথ্য জানালেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য।

তবে তিনি একথা স্বীকার করে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় চিঠি ও পোস্টকার্ডের ব্যবহার কমিয়েছেন। বরং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পাঠাতে আরও বেশি করে চিঠি ও পোস্টকার্ডের ব্যবহার করছে। তিনি বলেছেন, গোটা দেশে ২০১৬-’১৭ আর্থিক বছরে চিঠি ও পোস্টকার্ড ব্যবহার হয়েছিল যথাক্রমে ৩৭২ কোটি ৮৬ লক্ষ এবং ৯৯ কোটি ৮৯ লক্ষ।

২০১৭-’১৮ আর্থিক বছরে তা বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ৩৭৫ কোটি ৯৬ লক্ষ এবং ১০৬ কোটি ২৩ লক্ষ। সাধারণ মানুষ যে অনেক ক্ষেত্রে ডাকে আসা পোস্টকার্ড সময়ে পান না, সেই দুর্বলতার কথা মেনে নিয়েছেন পোস্টমাস্টার জেনারেল।চিঠি, পোস্টকার্ড ইত্যাদির জন্য ডাক বিভাগের বিপুল লোকসান হয়। ডাক বিভাগের রিপোর্ট বলছে, একটি পোস্টকার্ডের জন্য তাদের খরচ হয় ১২ টাকা ১৫ পয়সা। কিন্তু তা বিক্রি করে মেলে মাত্র ৫০ পয়সা। বুকপোস্ট, স্পিড পোস্ট, ভিপি প্রভৃতি থেকে যা আয়, তার তুলনায় পরিষেবা দেওয়ার খরচ অনেক বেশি।

ডাক বিভাগের কর্মীদের বেতন ও পেনশন খাতে ২০১৮-’১৯ আর্থিক বছরে খরচ হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সেখানে ডাক বিভাগের আয় হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেলের বক্তব্য, তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। কোন পরিষেবার কী দাম নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।তবে এখন নানাভাবে আয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে ডাক বিভাগ। আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ সঞ্চয় প্রকল্প থেকে আসে। ওই সঞ্চয় প্রকল্পের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৭ কোটি। এতদিন কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের হয়ে বিভিন্ন স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প চালাত ডাক বিভাগ। এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমোদন নিয়ে ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:00:58 0:00


XS
SM
MD
LG