অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দলের নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল জনসমাবেশ করলেন অমিত শাহ্


আজ অভিনব একটি ভার্চুয়াল জনসমাবেশের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করে ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ তাঁর দলের অন্যান্য নেতাদের নিয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের নিয়ে একটি সমাবেশ করলেন। এবং সেখানে তিনি বক্তৃতার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট। সেটাকে ভারতীয় জনতা পার্টি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে আজ এই জনসভায় অমিত শাহের কথাতেই তা স্পষ্ট হয়ে গেল। কয়েকদিন আগেই বিজেপি বলেছিল, সারা ভারত জুড়ে তারা ভার্চুয়াল জনসমাবেশ করবে। করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে সবাইকে ডেকে এক জায়গায় জড়ো করে জনসমাবেশ করা, বা সভা করা নিষিদ্ধ, এবং অদূর ভবিষ্যতে তা সম্ভব হবে কিনা তা-ও জানা যাচ্ছে না, সেই অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ওয়েবেক্স নামে একটি অ্যাপের সাহায্যে ভারতীয় জনতা পার্টির দিল্লি অফিস থেকে শাহ্ এবং কলকাতায় আলাদা মঞ্চে স্থানীয় বিজেপি নেতারা বসে কথা বললেন। বিজেপির সর্বময় কর্তা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ দিল্লির মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বাসীদের জানালেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের কতটা সুবিধা হবে, কেন্দ্রীয় কোন কোন প্রকল্প তাঁরা রাজ্যে চালু করবেন। বস্তুত পশ্চিমবঙ্গে এই ভার্চুয়াল সমাবেশের এই বক্তৃতার ভেতর দিয়েই বিজেপি ভোটের দামামা বাজিয়ে দিল। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এবং এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় জনতা পার্টির পাখির চোখ হয়ে রয়েছে। এই রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে পারলে একটা বিরাট কৃতিত্ব বলে বিজেপি দাবি করতে পারবে, কারণ বরাবর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে দূরে ঠেকিয়ে রেখে এসেছে। অমিত শাহ্ শুরুতেই প্রত্যেকের সঙ্গে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আজ এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা আমাকে দেখতে পাচ্ছেন শুনতে পাচ্ছেন। তবে আমি আপনাদের কিছু বলার আগে এই মহান রাজ্যটির মহান সন্তানদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমার বক্তব্য শুরু করব। এই বলে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রাজা রামমোহন রায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং বাংলার আরও অনেক কৃতী সন্তানের নাম উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।

অমিত শাহ বলেন, তৃণমূল দল, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এই রাজ্যকে শ্মশানে পরিণত করেছেন, আমরা আবার একে সোনার বাংলায় পরিণত করবো। সারা ভারতের জনগণ ভারতীয় জনতা পার্টির তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়ুষ্মান প্রকল্প বা স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়ে উপকৃত হয়েছেন, অথচ পাছে মোদীজি বা তাঁর দল এ রাজ্যে জনপ্রিয় হয়ে যায়, সেই ভয়ে আয়ুষ্মান প্রকল্পকে মমতা দিদি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতেই দেননি। আমি কথা দিচ্ছি আমরা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করে দেব। এর পরে তিনি তাঁর দলীয় সরকারের কাজের ফিরিস্তি দেন। জানান, গত পাঁচ বছরে ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতীয় জনসাধারণের জন্য কী কী ভালো কাজ করেছে। তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত শাহ্ বলেন, দিদি আপনি এবার আপনার দশ বছরের রেকর্ড নিয়ে মানুষের কাছে আসুন। বলুন আপনারা কী কী ভালো কাজ করেছেন। সমর্থকদের প্রবল হাততালির মধ্যে অমিত শাহ বলেন, মমতা দিদি আপনি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য স্পেশাল ট্রেনকে রাজ্যে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না করোনার ভয়ে। আপনি ওই ট্রেনটিকে নাম দিয়েছিলেন করোনা এক্সপ্রেস। এ রকম একটা অমানবিক নাম দেওয়াটা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি, ভালো হয়নি। আমি বলে দিচ্ছি এই করোনা এক্সপ্রেস নামকরণই আপনার জন্য হয়ে যাবে এক্সিট এক্সপ্রেস, বিদায় এক্সপ্রেস। এই বলে আজকের সভা শেষ করেন অমিত শাহ্। পশ্চিমবঙ্গের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, তৃণমূল থেকে যাওয়া বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। অমিত শাহ্ বলেছেন ভবিষ্যতে আরও এরকম ভার্চুয়াল সমাবেশ করে তিনি রাজ্যবাসীর কাছে আসবেন।

দীপংকর চক্রবর্তী, ভয়েস অফ আমেরিকা, কলকাতা

please wait

No media source currently available

0:00 0:00:50 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG