অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আজ সারা ভারতে ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর সমাপ্তি অনুষ্ঠান পালিত


আজ সারা ভারতে ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর সমাপ্তি অনুষ্ঠান পালিত হলো।

জন্মসূত্রে স্কটিশ-আইরিশ স্কুল শিক্ষিকা মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ১৮৯৫ সালে লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর শিষ্যত্ব বরণ করেছিলেন। ইচ্ছে ছিল ভারতের জন্য কিছু করার। ১৮৯৮ সালে তিনি কলকাতায় এলে স্বামীজি তাঁকে ব্রহ্মচর্যে দীক্ষিত করে নাম দেন ভগিনী নিবেদিতা। সেই থেকে ভারতবর্ষের সেবায় তিনি নিবেদিত প্রাণ। পরাধীন দেশের কল্যাণে তখন অনেক কাজ করতে হবে। নিবেদিতা প্রথমেই বেছে নিলেন নারীশিক্ষা। শহরে আসার কয়েকমাসের মধ্যে বাগবাজারে মেয়েদের একটি স্কুল খোলেন তিনি। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞান চর্চার জন্য গবেষণায় টাকা দরকার, লেখালেখি করে সেই টাকা জোগাড় করে দিলেন নিবেদিতা। তাঁর ধমনীতে আইরিশ রক্ত এক সময় তাঁকে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদে ব্রতী বিপ্লবীদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। শ্রী অরবিন্দ এ বিষয়ে তাঁকে উৎসাহ দেন। আধ্যাত্মিকতা বজায় রেখে তিনি তলে তলে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডেও সাহায্য করতে থাকেন। ১৮৯৯এ প্লেগ মহামারী সারা কলকাতায় যখন ভয়াবহ আকার নেয়, তখন সেবাসুশ্রূষার কাজে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁকে সাহস যুগিয়েছে স্বামীজির সেই মন্ত্র "বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর! জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভগিনী নিবেদিতার জন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতির উদ্দেশে বলেন..

নিবেদিতা তাঁর নাম সার্থক করে গিয়েছেন সারা জীবন ভারতের সেবায় নিবেদিত থেকে।

গত বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লন্ডনে সিস্টার নিবেদিতার ইতিহাস বিজড়িত বাড়িতে ব্লু প্লেক বসিয়ে এসেছেন। কলকাতায় বাগবাজারের যে বাড়িতে নিবেদিতা থাকতেন, সেখানে একটি সংগ্রহশালা হচ্ছে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দার্জিলিঙে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কবরে পাথরের ফলকে লেখা আছে, "Here lies Sister Nivedita who gave her all to India". এখানে শায়িত রয়েছেন ভগিনী নিবেদিতা, যিনি তাঁর সর্বস্ব ভারতকে নিবেদন করে গিয়েছেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:30 0:00

XS
SM
MD
LG