অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

স্লোভেনিয়ার ছোট এক শহরের মেয়ে মেলেনিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন


FILE - Republican presidential nominee Donald Trump's wife, Melania Trump, attends a campaign event in Washington, D.C., Oct. 26 2016.

জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে সাবেক মডেল মেলানিয়া ট্রাম্প, ২০০ বছরে এই প্রথম, বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কোন মহিলা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালের আগে অধিকাংশ আমেরিকান, মেলেনিয়া ট্রাম্প বা তিনি যেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন, ইউগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রজাতন্ত্র স্লোভেনিয়া সম্পর্কে খুব কম জানতেন।

ভয়েস অফ আমেরিকার ইউরোপ সংবাদদাতা লুইস রামিরেজ, স্লোভেনিয়ার লুবলিয়ানা থেকে পাঠানো রিপোর্টে মেলানিয়া ট্রাম্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

রিপোর্টটি পড়ে শোনাচ্ছেন শাগুফতা নাসরিন কুইন।

স্লোভেনিয়া যেন রূপকথার এক রাজ্য। ঠিক ছবির মত, পাহাড়ের গায়ে প্রাসাদ আর দেবদারু বৃক্ষের সারি। স্লোভেনিয়ার জনগন মনে করেন মেলেনিয়া ট্রাম্পের কারণেই বিশ্ববাসি এখন তাদের দেশ সম্পর্কে জানতে পারবে।

স্লোভেনিয়ার এক নাগরিক ইয়াকব সাসটেরিচ বলেন, “স্লোভেনিয়া, স্লোভেনিয়া কি? ওটা কি একটা খাদ্য? একটা গাড়ি? কেউ জানে না এটা একটা দেশ। কেউ জানে না এটা একটা জাতি। কেউ জানে না মেলেনিয়া স্লোভেনিয়ার মেয়ে। তাই আমাদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। ২০ লক্ষ মানুষের এই দেশটি এখন ইউরোপে, সারা বিশ্বে নিজেদের স্থান করে নেবে।

FILE - Photos of 17-year-old Melanija Knavs, taken by photographer Stane Jerko in Ljubljana, Slovenia, in 1987, launched the modeling career of the woman who later would become Melania (Knauss) Trump.
FILE - Photos of 17-year-old Melanija Knavs, taken by photographer Stane Jerko in Ljubljana, Slovenia, in 1987, launched the modeling career of the woman who later would become Melania (Knauss) Trump.

যে আলোকচিত্রী মেলানিয়াকে এক ফ্যাশান শোতে আবিষ্কার করেন তার নাম স্টানো ইয়ার্কো।

স্টানো ইয়ার্কো বলেন, “তিনি ছিলেন বেশ লম্বা ও পাতলা। মাথায় লম্বা চুল। এবং তাই আমি মনে করেছি তিনি ফটো মডেল হিসেব ভাল কাজ করতে পারবেন। আমি লক্ষ্য করি যে তিনি শুধু সুন্দরী নন ---হয়ত শুনতে অদ্ভুত লাগবে কিন্তু তার ভেতরে একটা শক্তি কাজ করে।

ওই মনোবলই তাকে শীর্ষে নিয়ে যায়। ইয়ের্কো মনে করেন আমেরিকান ইতিহাসে সেটাই তাঁর একটা ছোট অবদান।

স্টানো ইয়ার্কো বলেন, “আমার জন্য এটা খুবই আগ্রহ উদ্দিপক যে তিনি first lady হতে যাচ্ছেন। প্রথমত আমি তাকে আবিষ্কার করি এবং আমি যে সব ছবি তুলেছি তিনি তা ব্যবহার করেছেন।”

First lady হিসেবে মেলেনিয়া, কি ভাবে cyber bullying মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করবেন। হাই স্কুল, কিশোরীদের জন্য একটা কঠিন সময়। যারা বুলিং করে তাদের সঙ্গে কি আচরণ করতে হবে, মেলেনিয়া হাই স্কুলে সে ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা দেখিয়েছেন। তার হাই স্কুলের এক বন্ধু পেটরা সেডে বলেন, “ও খুব সুন্দরী ছিল, মডেল ছিল, তাই অন্য মেয়েরা অনেক কথা বলতো। তারা ওকে ঈর্ষা করতো। ও তাতে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতো না। আমার মনে হয় ও যেহেতু জানতো ও ভাল, ওর মধ্যে একটা মনোবল ছিল। আপনি যখন জানবেন আপনি ভাল মানুষ, কথা দিয়ে আপনার সেটা প্রমাণ করতে হবে না।”

সাম্যবাদ এবং ইয়োগোস্লাভিয়া --- দুটোই তখন পতনের মুখে। মেলেনিয়া স্কুলে বসে সেই নতুন বিশ্বের স্বপ্ন দেখতো।

পেটরা সেডে বলেন, “আমরা পড়াশুনার কথা বলতাম --- কেমন করে পৃথিবীটা দেখবো। মডেল হিসেবে ও জানতো স্লোভেনিয়া ওর জন্য ক্ষুদ্র স্থান।”

প্রথমে মিলান, পরে প্যারিস এবং শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মেলেনিয়ার পরিচয় হয় সেই নিউ ইয়র্কেই।

মেলেনিয়ার নিজ শহর সেভনিচায়, তাঁর স্বজনরা বলেন ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে, মেলেনিয়ার বাবা ভিক্টোর কেনাভস’র কিছু বৈশিষ্ট লক্ষ্যনীয় যেমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ব্যবসার বিষয়ে দক্ষতা। ভিক্টোর কেনাভস গাড়ি বিক্রী করেন।

তাঁর পরিবারের এক বন্ধু জাড্রাভকো মাস্টনাক বলেন, “ ভিক্টোর সব সময়ই আরও অর্থ উপার্জনের জন্য গাড়ি বা অন্য কিছু নিয়ে কাজ করতেন। তিনি সে রকম লোকজনের সঙ্গেও মেলা মেশা করতেন। নিয়মিত চাকরির সঙ্গে ব্যবসা থাকায় তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আরও একটু ভাল ভাবে থাকা। মেলেনিয়া নিশ্চযই সেটা লক্ষ্য করেছে যে ওর বাবা ভাল ব্যবসা বুঝতেন। ডনাল্ড আর ভিক্টোরের মধ্যে বড় মিল আছে। তবে মাত্রাটা অনেক ভিন্ন। ভিক্টর ছোট একটা কিছু নিয়ে তা মেরামত করেপরে আরও বেশি দামে বিক্রী করতো। আর ডনাল্ড ফ্লোরিডায় দুটো বা তিনটে আকাশ চুম্বি ভবনের পরিবর্তে San Franciscoতে দুটো নতুন ভবন সংগ্রহ করেন।

বহু আমেরিকান এর আগে স্লোভেনিয়া দেশটির নামও শোনেননি। স্লোভেনিয়া’র অনেক নাগরিকের কাছে এখন মনে হয় তাদের একজন White Houseএ বসবাস করবেন তাই আমেরিকার চিত্রটা যেন অতি উজ্জল।

ইয়াকব সাস্টারিচ বলেন, “ এতে আমরা আমেরিকা থেকে বিগত দিনগুলোতে যে বার্তা পেতাম সেটাই এখন পাচ্ছি--- যে আমেরিকা হচ্ছে সম্ভাবনা আর সুযোগের একটি দেশ। যারা আমেরিকায় বসবাস করেন বা সে দেশে যান তারা অনেক কিছু অর্জন করতে পারেন।”

স্লোভেনিয়ার জনগন মনে করে --- সকলের উচিত মেলেনিয়া ট্রাম্পেকে অভিনন্দন জানানো --- কারণ সেটা তার প্রাপ্য।

XS
SM
MD
LG