অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের তিন লাখ ইউরো অনুদান দেবে


A family stands beside remains of a market which was set on fire, in Rohingya village outside Maungdaw, in Rakhine state, Myanmar, Oct. 27, 2016.

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে নতুন আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য তিন লাখ ইউরো অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় আড়াই কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেছে। মিয়ানমারের সেনা, পুলিশ এবং স্থানীয়দের হাতে হত্যা-ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়াসহ নানাবিধ অত্যাচার নির্যাতনের কারণে যারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে পেরেছেন, তাদের কয়েকজন ভয়েস অফ আমেরিকার কাছে বলেছেন, কিভাবে ভিনদেশে এসেও এক সীমাহীন কষ্ট আর মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিজ ভিটেমাটি হারানোর বেদনা- দুঃসহ স্মৃতি আর অত্যাচার নির্যাতনের দগদগে যাতনায় ভিনদেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখন কক্সকাজারের উখিয়া আর টেকনাফের ক্যাম্পে কোনোমতে, গাদাগাদি করে, তীব্র শীতের দিন আর রাতগুলো পার করছেন। খাওয়া-দাওয়াসহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থাও তারা পাচ্ছেন না। এহেন দুর্দশা মাথায় নিয়ে যারা ক্যাম্পে আশ্রয় পেয়েছেন বা পাননি, তারা নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন- পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। তাদের নতুন গন্তব্য বান্দরবান, কক্সবাজারের বনজঙ্গল বা পাহাড়ি এলাকা বা অন্য কোথাও। ভাগ্যবানদের কেউ কেউ চট্টগ্রামেও আশ্রয় নিয়েছেন।
মাত্র ৪ দিন আগে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন ১৭ বছরের সামিয়া- সঙ্গে স্বামী আর একেবারে ছোট্ট মেয়েটি। মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু’র কেয়ারী পাড়ায় ছিল তাদের স্থায়ী বসবাস, ছিল স্বস্তির জীবন-যাপন। সামিয়া বললেন, ‘ওখানে জীবন ছিল দুর্বিষহ; ওরা মানুষকে হত্যা করে; জখম করে, অমানবিক-অমানসিক জুলুম নির্যাতন করে। আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের নিদারুন কষ্টের মধ্যে আমরা এসে পৌছেছি বাংলাদেশে। এখানে এসেও আরেক কষ্টের জীবন; থাকার কষ্টটাই বেশি। গাদাগাদি করে ভয়ানক কষ্টের জীবন যাপন করছি। মাসে হাজার টাকা গুনতে হবে একটি ঘরে আশ্রয় পাবার জন্য। অথচ আমাদের তো কোনো টাকা-কড়ি নেই। নিদারুন কষ্টে আছি আমরা, বললেন সামিয়া।
মোহাম্মদ সাদেক- বাংলাদেশে এসেছেন সপ্তাহ তিনেক আগে। মা নেই-বাবা নেই, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন কে কোথায় আছেন- তা তার জানা নেই। তার জবানীতেও শোনা গেল বাংলাদেশে এসে জীবন-ধারন আর দিন যাপনের কষ্টের কথা। কক্সবাজারের সাংবাদিক আহমেদ গিয়াস জানিয়েছেন, কিভাবে নতুন আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা এক কষ্টকর জীবন-যাপন করছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মিয়ানমারের উপরে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ঢাকা থেকে আমীর খসরুর রিপোর্ট।

XS
SM
MD
LG