অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রাণঘাতী হামলার পর নাইজেরিয়ায় আংশিক কারফিউ জারি


উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য নাইজেরিয়ায় অনেক বছর ধরে প্রধানত মুসলিম যাযাবর পশুপালক এবং খ্রিস্টান কৃষকরা সেখানকার সম্পদ, বিশেষত পানি এবং ভূমির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সহিংস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ায় সন্দেহভাজন খ্রিস্টান মিলিশিয়া বাহিনী ৯০ জন মুসলমানের একটি কাফেলার উপর আক্রমণ চালিয়ে, কমপক্ষে ২৩ জনকে হত্যা করার এক দিন পর রোববার কেন্দ্রীয় প্ল্যাটাউ রাজ্যের কিছু অংশে কারফিউ জারি করেছে নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষ।

উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য নাইজেরিয়ায় অনেক বছর ধরে প্রধানত মুসলিম যাযাবর পশুপালক এবং খ্রিস্টান কৃষকরা সেখানকার সম্পদ, বিশেষত পানি এবং ভূমির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সহিংস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্ল্যাটাউ রাজ্যের রাজধানী জোসে শহর
প্ল্যাটাউ রাজ্যের রাজধানী জোসে শহর

হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট মুহম্মাদু বুহারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এট কৃষকদের সাথে যাযাবরদের সংঘর্ষ নয়, বরং এটি সরাসরি নির্লজ্জ এবং বিদ্বেষমূলক আক্রমণ”।

নাইজেরিয়ান পুলিশের মুখপাত্র উবা ওগাবা জানিয়েছেন “একদল সন্দেহভাজন ইরিগুয়ে যুবক (প্রধানত খ্রিস্টান)... মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের বহন করা পাঁচটি বাসের এক কাফেলায় ওই হামলা করে”।

তবে ইরিগুয়ে প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল ওই হামলার দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরিগুয়ে ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ডেভিডসন ম্যালিসন বলেন, “আমরা এখনও শোক ও গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। সেই সাথে, এমন একটি ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য পুলিশ কমান্ডদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। নাহলে এর ফলে ইরিগুয়েদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়ে যাবে”।

৯০ জন যাত্রীর মধ্যে ২২ জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, কিন্তু রবিবার মৃতের ওই সংখ্যা সংশোধন করা হয়েছে।

“ক্রমাগত উত্তেজনা এবং কিছু ব্যক্তি আইন তাদের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, এই আশঙ্কায়” গভর্নর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত জোস নর্থ, বাসা এবং জোস সাউথ এলাকায় কারফিউ জারির নির্দেশ দেন।

পরে রবিবার, রাজ্য সরকার জোস নর্থের উপর সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করে।

পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হামলাস্থল থেকে ৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত কাফেলা সদস্যদের মধ্যে একজন মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্ল্যাটাউ রাজ্যের রাজধানী জোসের উপকণ্ঠে রুকুবা রোডে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

মুসলমান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি দল ইসলামী নববর্ষ উদযাপনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাউচি রাজ্য থেকে ফেরার পথে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এর আগে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে, জোসের আশেপাশে খ্রিস্টান-মুসলিম সংঘর্ষে অন্তত ৯১৩ ব্যক্তি প্রাণ হারায়।

XS
SM
MD
LG