অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বাড়ছে


বাংলাদেশে গত এক দশকে বজ্রপাতের পরিমাণ বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে এবং এর ফলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যাও ক্রমাগত ভাবে বেড়ে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে গাছ পালা কেটে ফেলা, বনাঞ্চল ধংস করা এবং সর্বোপরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনে দেশে বজ্রপাত বেড়েছে সেই সাথে বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা। সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের অতি সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২১ সালের ৩১ শে মার্চ থেকে জুনর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ১০ সপ্তাহে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে মধ্যে জুনের প্রথম সপ্তাহেই মারা গেছেন ৬৫ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওই সময়ে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও ৪৭জন।নিহতদের মধ্যে ১২২ জনই বজ্রপাতের সময় ফসলের মাঠে কৃষি কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয় এবছর বজ্রপাতের ‘হট স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা যেখানে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই মারা গেছেন ১৮ জন। প্রতিবেদনে বলা হয় ২০২০ সালে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ১৩৩ জন, ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬৫ জন এবং ২০১৬ সালে ৩৫১ জন।

সরকার বজ্রপাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এই খাতে বরাদ্দ নিতান্তই কম বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে যাতে বজ্রপাতের ওপর গবেষণা ও পূর্বাভাসের ব্যবস্থাকে উন্নত করা যায়। বাংলাদেশে গত এক দশকের বজ্রপাতের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে দেশে বজ্রপাতে প্রতিবছর প্রাণহানি বাড়ছে। এর কারন ও প্রতিকার সম্পর্কে ভয়েস অফ অ্যামেরিকার তরফে সংস্থাটির গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন পরিবেশের ওপর নগ্ন হামলা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বজ্রপাত বেড়েছে। জনসচেতনতা বাড়ানোসহ প্রকৃতিকে সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তি ব্যাবহার করে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে গত এক দশকে দেশে বজ্রপাতে প্রান হারিয়েছেন দুই হাজারের ওপর মানুষ।

XS
SM
MD
LG