অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রেসিডেন্ট ওবামার স্বাস্থ্যসেবা আইন থাকা না থাকার প্রশ্ন


প্রেসিডেন্ট ওবামার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা আইন। ওবামার সেই স্বাস্থ্যসেবা আইন এবং তাঁর লেগ্যাসী রক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পার হয়েছে বুধবার। ক্যাপিটল হিলে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান আইনপ্রেনেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যথাক্রমে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও নব নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

ক্যাপিটল হিলের জন্য বুধবার ছিল অস্বাভাবিক কিছু সময়। একজন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট এবং একজন নব নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট একই সময়ে ক্যাপিটল হিলে উপস্থিত ছিলেন একটি ইসুতে ভিন্ন অবস্থানে। দুজন যে যার দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম কর্মসূচী নিয়ে।

রিপাবলিকান আইনপ্রেনেতারা চান ওবামাকেয়ার খ্যাত স্বাস্থ্য সেবা আইন বাতিল করতে যার আওতায় ইতিমধ্যেই ২ কোটি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা চান এটা কোনোভাবেই বাতিল না হোক।

বুধবারের প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ন এ বৈঠক ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে পরিস্কার দলীয় দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। নব নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স রিপাবলিকান আইনপ্রেনেতাদের প্রতি প্রথম দিনেই ওবামার স্বাস্থ্যসেবা আইন বাতিলের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেন।

“প্রথম দিন থেকেই তা শুরু হবে—এবং দিন শেষ হবার আগে আমরা আশা করছি নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওভাল অফিসে যথাযথ ব্যাবস্থা নেবেন”।

অপরদিকে ডেমোক্রেট দলীয় আইন প্রনেতারা দমে যাবার নন। তাদের বিশ্বাস তারা এর পক্ষে সমর্থন পাবেন। যেমনটি বললেন ডেমোক্রেট দলীয় প্রতিনিধি এলিজা কামিংস

“প্রেসিডেন্ট এটি পরিস্কার করেছেন যে রাজনীতি আমাদের পক্ষে এবং বেশীরভাগ জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে আমেরিকানরা এই আইন বাতিল হোক তা চান না”।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে পরে রিপাবলিকানদের প্রতি বলা হয় যে পদক্ষেপের কথা তারা বলছেন তা সহজ নয়। হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারী জশ আর্নেষ্ট বলেন,

“নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেয়া প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ব্যাবধান থাকে; বিশেষ করে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট দেশটির দায়িত্ব নেয়ার পর তা বেড়ে যায়”।

বুধবার কাপিটল হিলে দুই পক্ষের বেঠকের সময় নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের টুইট বার্তা বিষয়টি নিয়ে সংকট আরো বাড়িয়ে তোলে।

টুইটে তিনি স্বাস্থ্য সেবা খাতের যে কোনো অসফলতার জন্যে ডেমোক্রেটদেরকে দায়ী করতে রিপাবলিকানদের প্রতি আহবান জানান। রিপাবলিকান আইনপ্রেনেতারা ট্রাম্পের টুইটকে স্বাগত জানান। ট্রাম্পের টুইটারের প্রশংসা করে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলীয় সদস্য ক্রিস কলিন্স বলেন

“নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের আমেরিকানদের সঙ্গে যোগাযোগের এই বিশেষ দিকেটি অন্যন্য”।

সেনেট ডেমোক্রেটরা চাচ্ছেন ট্রাম্পের টুইট বার্তা যেনো কোনো ভাবে তার নিজের বিরুদ্ধে যায়।। যেমনটি বলেন ডেমোক্রেট নেসেটর চাক শুমার।

“রিপাবলিকানদের উচিৎ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বোকার মতো কাজ না করা। তাতে মানুষের ক্ষতি হবে। তারা আটকে যাবে”।

এ বিষয়ে ডেমোক্রেট দলীয় সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “কংগ্রেসে সময় নষ্ট না করে বিষয়টি নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের সামনে আসা উচিৎ। টুইটারই তিনি পরিস্কারভাবে বলতে পারেন যে ডনাল্ড ট্রাম্প মেডিকেয়ার মেডিকেইড ও সোশাল সিকিউরিটি কমানোর যে কোনো আইনে ভিটো দেবেন”।

এ বিষয়টির অচিরেই কোনো সুরাহার সম্ভাবনা নেই। তবে একে অপরকে দায়ি করা থেকে বিরত থেকে হয়তো তারা সমঝোতায় আসতে পারেন।

XS
SM
MD
LG