অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জলবায়ু পরিবর্তনে সাগরে জীববৈচিত্র্যের সংকোচন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে


নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ক্যারিবীয়ান সাগরে জলের তাপমাত্রা ক্রমশঃ বাড়তে থাকার কারণে সামুদ্রিক প্রজাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মহাসাগরীয় প্রাণীদের জীবন বিশেষভাবে প্রভাবিত করছে, ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সের প্রায় কয়েক দশক ধরে সংগঠিত, সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি সমীক্ষা সামুদ্রিক জীবনে বৈচিত্র্য কমে আসার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এ বিষয়ে ভিওএর সংবাদদাতা আরশ আরবসাদির প্রতিবেদন থেকে জয়তী দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন যে, প্রকাশিত গবেষণাটিতে দেখা গেছে মাত্র ৪০ বছরের সময়কালে, সমুদ্রগর্ভের তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে একটি সামুদ্রিক প্রজাতির সংখ্যা ৫0 শতাংশ কমে যাওয়ার জন্য গবেষকরা সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন।

পরিবেশবিদ এবং কোরাল রিফ বা প্রবালপ্রাচীর গবেষক সেবাস্তিয়ান ফারস বলেন, “ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে এটি খুবই অদ্ভুত, এটি যেন চোখের পলক ফেলার মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। আমি বলব, এত দ্রুত পরিবর্তন বা এত দ্রুত ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলি সত্যিই খুবই বিস্ময়কর।” গবেষক ও পরিবেশবিদ সেবাস্তিয়ান ফারস বলেন, সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীরগুলি উত্তর ও দক্ষিণে মেরুগুলির দিকে ক্রমশঃ সরে যেতে শুরু করেছে, জলের উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা যে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এটি তারই একটি চিহ্ন, তবে পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য এই পরিবর্তন এত দ্রুত করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে তিনি প্রশ্নও তুলেছেন।

গওতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীব ভূগোলবিদ ও গবেষক ছায়া চৌধুরী জানাচ্ছেন, যেসব প্রজাতিগুলি সহজেই চলাচল করতে পারে, সেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে নিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা দেখতে পেয়েছি যে প্রায় সমস্ত সামুদ্রিক প্রজাতিগুলি বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এবং সেগুলি উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলে জড়ো হচ্ছে, এবং এই অঞ্চলটিতেই প্রজাতির বৈচিত্র্য সবথেকে বেশীমাত্রায় দেখা যাচ্ছে।"

ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট পিম বলেছেন, ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেসের গবেষণাটি থেকে যে সব বিস্তৃত তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে এবং যে প্রবণতা দেখা গেছে যা বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। তিনি বলেন, "আমি বলতে চাইছি যে, আমাদের এই গ্রহ জুড়ে মানুষের সামগ্রিক ক্রিয়াকলাপের ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যাকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।" স্টুয়ার্ট পিম বলেন, খাদ্য শৃঙ্খল সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে বুঝতে হলে বিজ্ঞানীদের আরও অনেক অনুশীলন ও বিশদ তথ্যের প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, পুষ্টিকর খাবারের জন্য জীবজগতে বৈচিত্র্য একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড অর্থাৎ বিশ্ব বন্যজীবন তহবিল সংস্থাটি জানিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের প্রোটিনের প্রাথমিক উৎস খামারের চাষের, সামুদ্রিক চাষের এবং জল থেকে প্রাপ্ত খাদ্য।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:35 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG