অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানের স্কুলে জঙ্গী হামলায় শিক্ষার্থীসহ ১৩০ জন নিহত: ৩ দিনের শোক ঘোষণা


মুখোশ আর সেনা পোষাক পরে, শরীরের সঙ্গে বিস্ফোরক বেঁধে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পেশোয়ারে জঙ্গীরা সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে ঢুকে অন্তত ১৩০ জনকে হত্যা করেছে, যাদের বেশীরভাগই শিক্ষার্থী।

পাকিস্তানী তালিবান ঐ ঘটনায় দায় স্বিকার করেছে। পাকিস্তান থেকে এ নিয়ে আয়াজ গুলের রিপোর্ট ও ঐ ঘটনায় বিভিন্ন মহলের নিন্দা প্রকাশ সহ নানা বিষয় নিয়ে ইসলামাবাদে বসবাসরত বাংলাদেশী সাংবাদিক মাশকাওয়াত আহসানের সঙ্গে আলোচনা করছেন সেলিম হোসেন।

please wait

No media source currently available

0:00 0:08:08 0:00
সরাসরি লিংক

ইসলামাবাদ থেকে ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদদাতা আয়াজ গুল জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে পেশোয়ার শহরের কড়া নিরাপত্তা পরিবেষ্টিত এলাকার ঐ স্কুলটিতে ঢুকে শশস্ত্র লোকগুলি এলোপাথাড়ি গুলী চালাতে শুরু করে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তখন শীতকালীন পরীক্ষা দিচ্ছিল। মারা যায় অন্তত ১৩০ জন যাদের বেশীরভাগই শিক্ষার্থী।

পাকিস্তানের স্কুলের বর্বর শোকাবহ ঐ ঘটনায় নিন্দাপর ঝড় উঠেছে সারা বিশ্বে। পাকিস্তানে জাতীসংঘ কতৃপক্ষ এই ঘটনার নিন্দা জানায়। পাকিস্তানে যুক্তরাস্ট্রের রাষ্ট্রদূত রিচার্ড অলসন ঘটনাটিকে অমানবিক ও কান্ডজ্ঞানহীন আখ্যা দেন এবং নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।

ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনী লেক এক বিবৃতিতে বলেন এই হৃদয়বিদারক হত্যাকান্ড গোটা বিশ্বের মানুষের অন্তরকে নাড়া দিয়েছে। তিনি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন নিহত ও আহতদের প্রতি।

জাতীসংঘ মানবাধিকার বিভাগের হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান স্কুলে আক্রমণের ঘটনার চরম নিন্দা জানিয়ে একে জঘন্য ও ঘৃন্য কাজ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন তালিবান যে পাপাচারের সবচেয়ে নীচু স্তরে পৌছেছে, স্কুলে নিস্পাপ বাচ্চাদেরকে হত্যা করে তা তারা প্রমান করলো। আমরা সবাই এই বর্বরোচিত মানবাধিকার বিরোধী কর্মকান্ড রুখতে ঐক্যবদ্ধ হবো সারা বিশ্বে যেনো এমন ঘটনা আর না ঘটে।

সোয়াতে এমনই এক তালিবান আক্রমণে মারাত্মক আহত হওয়া নোবেল বিজয়ী কিশোরী মালালা ইউসুফজায়ীর নোবেল পুরস্কার গ্রহন অনুষ্ঠানে এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে জেইদ রা’দ বলেন, মালালা বলেছেন তিনি আশা করেন ‘শিক্ষার্থী শুন্য ক্লাসরুম, ও শৈশব হারানো শিশু’ যেনো তার প্রোজন্মের পর আর না থাকে।

আয়াজ গুল বলেন আক্রমণকারীরা অসংখ্য মানুষ জিম্মি করে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান স্কুল ক্যাম্পাসে গোলাগুলি চলার মধ্যেই এ্যাম্বুলেন্সে আহতদেরকে হাসপাতালে নেয়ার কাজ শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষের ধারণা কমান্ডোদের সঙ্গে জঙ্গীদের গোলাগুলি শুরুর আগেই বেশীরভাগ মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকেরা জানান কয়েক ডজন শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থায় আশংকাজনক। পেশোয়ারে কর্তৃপক্ষ জরুরী রক্ত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বরা উদ্ধারকৃত এক ছাত্র মুখতার সাংবাদিকদের বলেন, “গোলাগুলি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের শিক্ষক নিরাপত্তার জন্যে সবাইকে রুমের এক কোনায় চলে যেতে বলেন। এক ঘন্টা পর গোলাগুলি কিছুটা কমলে, সেনা সদস্যরা আমাদেরকে উদ্ধার করতে আসেন। এবং বের হওয়ার পথে এখানে সেখানে আমাদের স্কুল-মেটদের বুলেটবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখি”।

পেশোয়ারের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক পরে ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন স্কুল ভবনের বেশীরভাগ যায়গা পরিস্কার করা হয়েছে, তবে জঙ্গীরা প্রিন্সিপ্যালের রুম এবং পাশের একটি কক্ষ দখল করে রেখেছে। তিনি বলেন বন্দুকধারীরা প্যারামিলিটারী বাহিনী ফ্রন্টিয়ার করপসের পোষাক পরে ছিল”।

পাকিস্তানী তালিবান কর্তৃপক্ষ বলেছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে আফগান সীমান্তের কাছের উপজাতীয় এলাকায় অভিযানের জবাব হিসাবে এই হামলা চালানো হয়। ঐ সংঘাতপূর্ন অঞ্চলটিতে ইসলামিক জঙ্গীরা শক্ত ঘাটি গেড়েছে অনেক আগে থেকে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এই ঘটনাকে জাতীর জন্য মর্মান্তিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। “পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাস উৎপাটিত না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী জঙ্গীবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাবে। এই কাপুরুষোচিত জঘন্য বর্বরতা জাতীকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করবে”।

XS
SM
MD
LG