অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস পালিত: মমতায় ঘিরে থাক জীবনের শেষ দিনগুলো


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

পৃথিবীতে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ অসহনীয় ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে মারা যাচ্ছেন। চিকিতসা বিজ্ঞানের সব সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে, সারা বিশ্বে গড়ে উঠা সম্পূরক ধারা প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমন সেবার মাধ্যমে মৃত্যুপথযাত্রী এই রোগীদের ব্যথা-যন্ত্রণা এবং বিভিন্ন উপসর্গ প্রশমনে ওষুধ সরবরাহ, ভালবাসা ও সমর্থন দিয়ে স্বস্তিতে শেষ নিঃশ্বাস নিতে সহায়তা করা সম্ভব।

নিরাময়-অযোগ্য মৃত্যুপথযাত্রীদের জীবনের শেষ দিনগুলো মমতায় ঘিরে রেখে সুখপ্রদ মৃত্যু নিশ্চিত করার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে গত ১২ অক্টোবর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস’ পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্বজুড়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিশ্চিত হোক : সকল ভ্রান্ত ধারণা দূর হোক’। প্রশমন সেবা সম্পর্কে বাংলাদেশে সচেতনতা গড়ে তুলতে দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)সেন্টfর ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং গণমাধ্যম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের সভাপতিত্বে শহীদ ডা. মিলন হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ, সেন্টার ফর প্যালেয়িটিভ কেয়ারের অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শারমিন লাকী, ডা. আবদুন নূর তুষার প্রমুখ।

নিরাময়-অযোগ্য রোগীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক কষ্ট লাঘবে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, কোন মানুষই আলাদাভাবে মারা যান না। রোগী দেখার সকল অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও ডাক্তাররাও একইভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের সার্বিক চিকিতসা এবং এই সেবার ধারণা জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবী জানিয়ে ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ বলেন, প্যালেয়িটিভ কেয়ার সেসমস্ত রোগীর জন্য যারা আর ভাল হবেন না। ডাক্তাররা যাদের বলে দেন এই রোগীর ক্ষেত্রে আর কিছুই করার নেই। কোন আশা নেই। যখন কোন শিশু পৃথিবীতে আসে তখন তাকে উপহার দেওয়া হয়। যে মানুষটি চলে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে তার কেয়ারটাও তো তেমন হওয়া দরকার। অন্তত শান্তিতে যাতে মারা যায় তেমন সেবা নিশ্চিত করতে হবে

নিরাময় অযোগ্য মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের পাশে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও চিকিতসা ব্যবস্থায় নিরাময়-অযোগ্য রোগীদের জন্য কোনো সেবা নেই। যদিও বিএসএমএমইউ’তে ১৯ শয্যার প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার রয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে নিরাময়-অযোগ্য ক্যানসার, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, এইডস এবং রোগ নিরাময়ের কোনো সুযোগ নেই এমন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের প্রশমনসেবা দেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকার বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ আছেন, যাঁদের এই প্রশমনসেবা প্রয়োজন। তাঁদের কাছে এ সেবা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।
please wait

No media source currently available

0:00 0:03:19 0:00
সরাসরি লিংক
XS
SM
MD
LG