অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

উজবেক যুবক সাইফুল্লো সাইপভ মঙ্গলবার ম্যানহাটেনে ট্রাক হামলা করে ৮ জনকে হত্যার পর নতুন করে ভীতির সঞ্চার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে। সন্ত্রাসী এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিও। এ ধরণের ঘটনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দায়ী করছেন ত্রুটিপূর্ন ডাইভারসিটি লটারী কর্মসূচীকে। ডেমোক্রেটিক নেতারা বলছেন এই সময়ে এ ধরণের মন্তব্য সহায়ক নয়।

ডাউনটাউন ম্যানহাটেনে ট্রাক হামলাকারী সাইফুল্লো সাইপভ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল ডাইভারসিটি ভিসায় ২০১০ সালে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন তিনি অভিবাসন লটারি বাতিল করার ব্যাপারে কংগ্রেসের সঙ্গে বসতে চান।

ট্রাম্পের মন্তব্যে ডেমক্র্যাটরা বলছেন প্রেসিডেন্ট এই দুঃখজনক ঘটনাকে রাজনীতিকিকরণ করছেন।

বুধবার টুইটার মন্তব্যে ডনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক সেনেটের চাক শুমারকে এই বলে দোষারোপ করেন যে তিনি ডাইভার্সটি লটারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসীদের আসতে দিচ্ছেন।

আইন রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ উজবেক বংশোদ্ভুত সাইফুল্লো সাইপভ কেনো ঐ ঘটনাটি ঘটালো তার অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মতো নিউইয়র্ক এবং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের উজবেক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

সাইফুল্লো বসবাস করতো ঘটনাস্থল থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে নিউ জার্সিতে। সেখানে তার প্রতিবেশীরা, যারা তাকে চিনতো; জানান তারা কখনোই তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেনি। কার্লোস বাতিস্তা সাইফুল্লোর প্রতিবেশী ছলেন, “আমার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক ছিল। এই ব্লকে আমি আর কাউকে চিনি না”।

নিউইয়র্কে উজবেক সম্প্রদায়ের লোকেরা ঘটনায় উদ্বিগ্ন। ইলখোমজন কেনজাবায়েভ একজন উজবেক নাগরিক। বললেন, “আমাদের নিজেদের এখানে একটি কমিউনিটি সেন্টার দরকার যাতে নিজেদের মধ্যে এ ধরনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারি। নিশ্চয় ইন্টারনেটে প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের ঘটনায় জড়িয়েছে”।

তুর্কিস্তানিয়ান আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ কাওয়াজা বললেন সন্ত্রাসীদের কোনো জাতীয়তা নোই, পরিচয় নেই, “উজবেক সংস্কৃতিতে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। ইসলামেও তা নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি এ দেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে, কারো ক্ষতি করতে নয়”।

মঙ্গলবারের সন্ত্রাসী ঘটনায় নিহতদের স্মরনে বুধবার রাতে ঘটনাস্থলের পাশে এক প্রার্থণা অণুষ্ঠিত। সেখানে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন অংশগ্রহনকারীরা। বিল হেনিং গত রাতে সেখানে অংশ নেন, “আমি মনে করি নিউইয়র্কাররা এ ধরনের সমাবেশে অংশ নিয়ে জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমারা যে ঐক্যবদ্ধ সেটি প্রকাশ করতে পারি। আমরা দেখছি সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করতে পারি এক সাথে”।

রউফ আলী নামে গত রাতের সমাবেশে অংশ নেয়া জনৈক মুসলিম নারী বললেন, “সেদিনের ঘটনা সত্যিই দু:খজনক; আরো কস্টের বিষয় হচ্ছে, কোনো মুসলমান যখন এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে; তখন পুরো ধর্মটাকে দায়ী করা হয়। আবার অন্য কেউ করলে; তা করা হয় না। ফলে আমার মনের মধ্যে কাজ করছে যে আমিও এই সমস্যার অংশ। কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে ইসলাম সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না”।

হামলাকারী সাইপভ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই টুইটারে বলেছেন সাইপভের মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিৎ। সাইপভ ডাইভারসিটি লটারীতে যুক্তরাস্ট্রে এসেছিল। সেই কারনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডা্‌ইভারসিটি কর্মসূচীর কড়া সমালোচনা করেছেন, “ডাইভারসিটি লটারী শুনতে খুবই ভালো লাগে। এটা ভালো কর্মসুচী নয়। আমরা এর বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি”।

মঙ্গলবারের ওই ঘটনার সূত্র ধরে প্রেসিডেন্ট ডিভি লটারীর সঙ্গে ডেমোক্রেটদের সমালোনা করে ছাড়া টুইট বার্তার জবাবে সমালোচনা করেন নিউইয়র্ক গভর্ণর এন্ড্রিউ ক্যুমো, “প্রেসিডেন্টের টুইট কোনো কাজের না। আমি মনে করি না তার কোনো মানে আছে। এতে করে এর রাজনীতিকীকরন করা হচ্ছে। তিনি একটি অভিবাসন নীতিমালার উল্লেখ করছেন এবং তার আওতায় আসা মানুষদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছেন”।

ডিভি আর্মসূচী বাতিলের বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যেও রয়েছে দ্বিধা। যেমনটি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গীবাদ বিষয়ক গবেষক বেনেট ক্লিফর্ড বললেন, “এখানে যারা বিদেশ থেকে আসছে তাদের কাছ থেকে আমরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছি বলে আমার মনে হয়না। আমার ধারনা এখানে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের সমস্যাটা আরো প্রকট, বিদেশ থেকে আসা সন্তো্রাসীদের তুলনায়। এখানে জন্ম নেয়ারাই সন্ত্রাস বেশী করছে।”

নিউইয়র্কের সন্ত্রাসী ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপের নেতৃবৃন্দও। ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশ্যে শোক জানিয়েছেন উউরোপীয় নেতারা। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে টুইটারে লিখেছেন ঐ কাপুরুষোচিত হামলায় আমি ব্যাথিত; দু:খিত। আমরা একসঙ্গে হয়ে সন্ত্রাসের মোকাবেলা করবো”।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ডো ফিলিপ নিউইয়র্ক হামলাকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসের হুমকীর আগাম বার্তা আখ্যা দিয়েছেন, “সারা বিশ্বে সন্ত্রাসের হুমকী রয়েছে এটা সবার মনে রাখতে হবে। আমরা ফরাসী জনগনের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করছি”।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আরো শক্তভাবে অংশ নেয়ার জন্য এটা আমাদের একটি রিমাইন্ডার। আমাদেরকে শক্তভাবে এর মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে”।

মঙ্গলবারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সকল অভিবাসি সম্প্রদায়ের মতো ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশী আমেরিকানদের ওপরও। কথা বলেছি কয়েকজন বাংলাদেশি আমেরিকানের সঙ্গে। তারা সবাই বলেছেন সচেতনাতা বৃদ্ধি এবং সন্তানদের ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করতে।

XS
SM
MD
LG