অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি সই


ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আজ একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি সই হয়েছে যার ফলে ভারতের কাছে তার প্রতিবেশী শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর গতিবিধি অজানা থাকবে না। নতুন দিল্লিতে দুই দেশ তাদের মন্ত্রীপর্যায়ের "২ এর সঙ্গে ২" আলোচনার মধ্যে "বেকা" নামে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটের আহরিত সমস্ত গোয়েন্দা তথ্য ভারতকে দেবে। তাতে ভারতের পক্ষে যেমন শত্রুদের সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপরে নজর রাখা সম্ভব হবে, তেমন প্রয়োজনে তাদের সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো আরও নির্ভুলভাবে আক্রমণ করে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। এটা ভারতের পক্ষে যেমন লাভ, তেমন যুক্তরাষ্ট্রও চীনকে দাবিয়ে রাখতে ভারতকে পাশে পাবে এবং ভারতের মাধ্যমে চীনের সম্প্রসারণবাদকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারবে।

নতুন দিল্লির ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে আজ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার '২এর সঙ্গে২" বৈঠকের তৃতীয় দফা আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে তাঁরা একটি যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার এবং চীনকে ঠেকানোর অঙ্গীকার করেন। সেক্রেটারি পম্পেও তাঁর ভাষণে জোর গলায় জানান, কমিউনিস্ট চীনের দুরভিসন্ধির সঙ্গে টক্কর দেওয়ার জন্য ভারত যা কিছু করবে, তাতে পাশে যুক্তরাষ্ট্রকে পাবে।

মাইক পম্পেও বললেন, আজ সকালে আমরা দিল্লিতে শহীদ বেদিতে মালা দিতে গেছিলাম। ভারতের সেই বীর সেনাদের উদ্দেশ্যে আমরা শ্রদ্ধা জানিয়েছি, যাঁরা ভারতের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, চীনের লালফৌজের সঙ্গে লড়াইয়ে ভারত একা থাকবে না, আমরা সব সময় পাশে আছি।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে কিছু প্রাথমিক আলোচনা সেরে নেওয়ার জন্য গতকাল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারের সঙ্গে আলাদা করে কিছুক্ষণ বসেছিলেন। ও দিকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে একটি নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে দরকারি কথাবার্তা সেরে নেন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কিছু বছর ধরেই সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে সেই বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে এবং তার গুরুত্ব বেড়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের মূল্যায়ন সংক্ষেপে জানানোর জন্য আমরা অনুরোধ করেছিলাম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জ্যোতির্ময় ব্যানার্জিকে।

এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে যিনিই ক্ষমতায় থাকুন না কেন, দুই দেশের একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে না।

please wait

No media source currently available

0:00 0:06:13 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG