অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কারখানা অগ্নিকান্ডে সন্তানহারা পিতামাতা দিশেহারা


আমরা বরাবরই শুনে থাকি পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা ভারি! কিন্তু পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া শিশু সন্তানের হাড় পেতে আকুল আবেদন জানানো পিতার দেখা সাধারণত পাওয়া যায় না। এমনই এক পিতার দেখা পাওয়া গেল রুপগঞ্জ ট্রাজেডির পর। হতভাগা এই পিতার নাম বেল্লাল হোসেন। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাড়ি। ঢাকায় থাকেন ১৮ বছর হলো। তিন মেয়ে। পুড়ে যাওয়া মিতু তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। ছোট মেয়ের বয়স আড়াই থেকে তিন। বড় মেয়ে খাদিজাও চাকরি করতো জুস কারখানায়। বেঁচে গেছে ভাগ্যগুণে। ওইদিন তার রাতের ডিউটি থাকায় বাসায় ছিল। ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে বেল্লাল হোসেন বলছিলেন, আমার মেয়ে ক্লাস এইটে উঠবে। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় চাকরিতে গেছে। মেয়ে বলতো- আব্বা তোমারতো কোনো ছেলে নেই। তোমারতো ইনকাম করতে কষ্ট হয়। আমরা যদি দুই বোন মিলে কিছুটা কাজ করতে পারি তাহলে টাকা আসবে। তোমার অভাব কিছুটা ঘুঁচবে। বেল্লাল জেনে গেছেন, তিনি আর কখনো তার মেয়েকে ফিরে পাবেন না। হয়তো খুঁজে পাবেন না তার অতি আদরের সন্তানের লাশটাও। তাই বারবার আহাজারি করে বলছিলেন- ভিক্ষা চাই ভিক্ষা, আমার মেয়ের হাড্ডিটা অন্তত ফিরিয়ে দেন।

বেল্লালের মতো আরও অনেকেই সন্তানের লাশের অপেক্ষায়। পারভিন বেগম ও তাঁর মেয়ে তাসলিমা আক্তার ওই কারখানায় দ্বিতীয় তলায় কাজ করতেন। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে জীবনের ভয় না করে নিচে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে যান পারভিন। কিন্তু তাঁর মেয়ে তাসলিমা নিখোঁজ। ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে কাঁদছিলেন পারভিন। মেয়ের পোড়া শরীরটা একবার দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। কিন্তু তার অপেক্ষার তো আর শেষ হচ্ছে না। বারবার বলছিলেন, মা তুই কই?

XS
SM
MD
LG