অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রশাসনের নজরদারি এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারনে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ করা যাচ্ছে না


বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের মতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে দেশে আইন থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারনে তা রোধ করা যাচ্ছে না। গত সোমবার দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলার হাট হাজারিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষক আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনাটি এই দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে অতিতে এ এধরনের শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দুর্বল পদক্ষেপের কারনেই এ ধরনের ঘটনা দেশে প্রয়াসই ঘটে চলেছে। সোমবার মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে এর তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষক মাওলানা হাফেজ ইয়াহহিয়াকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করেছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে। তবে, শিশুটির বাবা-মা শিক্ষক ইয়াহহিয়ার বিরুদ্ধে মামলা বা কোনও আইনি ব্যবস্থা নেবে না বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাই কোর্ট মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাই কোর্টের একটি বেঞ্চের নজরে আনলে আদালত মাওলানা ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে কোনও মামলা, তাকে গ্রেপ্তার কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, তা চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের জানান মারধরের শিকার শিশুটির বাবা-মাকে মামলা প্রত্যাহার করতে জোর করা হয়েছে কি না এবং তার পরিবারকে পুলিশি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছে আদালত। তিনি বলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সালমা আলী ভয়েস অফ অ্যামেরিকাকে বলেন মাদ্রাসায় শিশুদের মারধরের পাশাপাশি মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ এবং ছেলে শিশুদের বলৎকারের ঘটনাওঘটছে । বিশেষজ্ঞরা বলছেন শিশু নির্যাতন রোধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার করা প্রয়োজন।

XS
SM
MD
LG