অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়ার মেট্রো ষ্টেশনে হামলাকারীর নাম আকবারজন জালিলভ


সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে সাবওয়েতে হামলাকারীকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। ঐ হামলায় ১৪জন নিহত ও ৫০জন আহত হয়। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঐ হামলা ঘটিয়েছে সন্দেহে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইন রক্ষাকারী বাহিনী।

সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা সন্দেহ করে রুশ কর্তৃপক্ষ সেন্ট পিটার্সবার্গ সাবওয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে এগুচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে তল্লাসী অভিযান। তদন্ত সম্পর্কে বললেন RUSSIAN INTERNATIONAL AFFAIRS COUNCIL এর কর্মকর্তা ANDREI KORTUNOV, “আমি মনে করি এটি এখন পরিস্কার যে ছোট একটি ডিভাইস ব্যাবহার করা হয়েছিল। ঐ ডিভাইস শনাক্ত করা খুব কঠিন ছিল। এমনকি মেট্রো ষ্টেশনের বাইরেও নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারাও তা কঠিন ছিল”।

তিনি বলেন এটি যদি সন্ত্রাসী হামলা হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ন হিসাবে নেবো আমরা। কারন রাশিয়া বহুদিন এরকম কোনো হুমকির মুখোমুখি হয় নি। ১০-১২ বছর আগে আমাদের এ রকম কিছু ঘটনা মোকাবেলা করতে হয়েছিল। এটা যদি তাই হবে তবে আমরাও আগের মতোই সন্ত্রাস দমনে ঘুরে দাঁড়াবো।

বিস্ফোরণটি ঘটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট Alexander Lukashenko এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর মন্তব্য বলেন, “নিরাপত্তা রক্ষী এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে চলছে হামলার কারন ও এর সঙ্গে জড়িতদেরকে ধরতে। কি ঘটেছে কতোটা ক্ষতি হয়েছে বিস্তারিত জানানো হবে শিগগিরই। ক্ষতিগ্রস্থদেরকে ও তাদের পরিবারকে সকল ধরনের সহায়তা দিতে কাজ করছে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা”।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক Mark Galeotti স্কাইপ সাক্ষাৎকারে বলেন আশংকা করছি এ ধরনের হামলা আরো ঘটে কিনা। “আসল কথা হচ্ছে, এ হামলার পর দেখা যাবে অল্প কিছুদিনের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। কিন্তু আশংকার বিষয় হচ্ছে এ ধরনের আরো হামলা যদি ঘটে সেটা কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই বিষয়টি বিবেচনায় আনা। এটা হতে পারে সন্ত্রাসী হামলা। যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়, তাহলে আশংকার কিছু নেই; কিছু সময় পরে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে”।

বিস্ফোরণটি এ্যাতো ভয়াবহ ছিলো যে সাবওয়ের বন্ধ বাতাসের বগিতে তা আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। হামলায় যে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটি ছাড়াও দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এবং তা নিস্ক্রিয় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী VERONIKA SKVORTSOVA বলেছেন ১১ থেকে মৃতের সংখ্য বেড়ে ১৪তের দাঁড়িয়েছে, “সন্ত্রাসী হামলার পর বিভিন্ন তদন্তে পাওয়া মৃতদেহের অংশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে আরো চারজনের শরীরের অংশ সেগুলো। ঘটনাস্থলে ১১ জনের মৃতদেহ মেলে। ৩ জন মারা যায় হাসপাতালে নেয়ার পথে এ্যাম্বুলেন্সে এবং ম্যারিংসায়া হাসপাতালে দুজনের অবস্থা এখনো আশংকাজনক রয়েছে”।

সাবওয়ে সিস্টেম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে হামলায় নিহতদের প্রতি শোক জানানোর লক্ষ্যে।

রাশিয়ার আইন শৃংখলা বাহিনী ধারণা করছে সেন্ট পিটার্সবার্গের সাবওয়ের আত্মঘাতি হামলাকারী একজন রাশিয়ান হবে।

তদন্তকারীরা ঐ হামলায় নিহত ১৪ জনের মধ্য হতে একজনের পোড়া দেহের কিছু নমুনা থেকে সন্দেহ করছেন সেই হতে পারে হামলাকারী। মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র কিরগিস্তানের গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে তাদের তদন্তে হামলাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তার নাম আকবারঝন জালিলভ (Akbarzhon Jalilov); জন্ম ১৯৯৫ সালে।

তবে রাশিয়া ও কিরগিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেন নি জালিলভই আত্মঘাতি হামলাকারী কি না। এর আগে রুশ কর্তৃপক্ষ ধারণা করে বলেছিল সম্ভাব্য বোমারু ২৩ বছর বয়সী একজন মধ্য এশিয়ান। ঐ হামলার দায় এখনো কেউ শিকার করেনি।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয় ঐ হামলার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে টেলিফোন করে শোক প্রকাশ করেন এবং রাশিয়ানদের সহয়াতার আশ্বাস দেন। দুই প্রেসিডেন্টই তাদের টেলিফোন আলাপে সন্ত্রাস নির্মুলে কাজ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।

হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রটারী শন স্পাইসার হামলার বিষয়ে করা মন্তব্য বলেন, “এই ঘটনার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন এবং আমরা অপেক্ষায় আছি কি ঘটেছে তা জানবার। রাশিয়ার এ হামলা আমাদেরকে সতর্ক করে দেয় যে সকল ধরণের সন্ত্রাস ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিউহত করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে ঐ হামলার তদন্তের সকল সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছে”।

Australia Curtin University রাশিয়ান বিশ্লেষক Alexey Muraviev, বলেছেন প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি ঐ ঘটনায় কয়েকটি গোষ্ঠি জড়িত, “রাশিয়ার হামলার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি বিষয় মাথায় আাসে। হতে পারে এটি আই এসের বা দায়েশের কাজ। বিভিন্ন জামাত এবং ইমারত কাফকা নামে সেন্ট পিটার্সবার্গে কয়েকটি জঙ্গী গোষ্ঠি আছে- আইএসের রাশিয়া ককাসের হয়ে তারা কাজ করে তারাও ঘটাতে পারে এ হামলা। তৃতীয়ত উইক্রেনের জঙ্গীরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং শেষত রাশিয়ার জাতীয়তাবাদী শক্তি- নন এথনিক রাশিয়ানরা বিদেশীদের সঙ্গে মিলে এটা ঘটাতে পারে”।

২০১০ সালে মস্কোয় মেট্রো ষ্টেশনে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। ঐ হামলায় চেচনিয়ায় ইসলামপন্থী জঙ্গীদের হয়ে কাজ করেছিল নারী আত্মঘাতি হামলাকারীরা। তখন ৩৩জন নিহত হন। সোমবারের হামলাটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের এ ধরণের প্রথম হামলা। তারও আগে ২০০৪ সালে মস্কো মেট্রোয় বোমা হামলায় ৫০ জন নিহত হন। সেটিও ছিল চেচেন বিদ্রোহীদের ঘটানো।

২০১৫ সালের অক্টোবরে মিশরে রাশিয়ার জেটলাইনার ভূপাতিত করা হয়েছিল যাতে ২২৪ জন নিহত হন। ইসলামিক ষ্টেট ঐ ঘটনা দায় শিকার করেছিল।

XS
SM
MD
LG